
প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জে জুয়ার আসরে পুলিশ হানা দিতে গেলে জুয়ারিদের হামলায় ওসি (তদন্ত) সহ ৪ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় এক বাসিন্দা আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ৩১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার উত্তর তিলকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উত্তর তিলকপুর এলাকায় খোলামাঠে খড়কুটো দিয়ে ঘর তৈরি করে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় জুয়ারিরা আসর বসান। জুয়ার আসরের সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ থানার সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আক্তার হোসেন ও সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়।
এ সময় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ জাবের আহমদ, খোকা মিয়া, সায়েম মিয়া, শামীম আহমদ, শামন মিয়া, কাউসার আহমদ, কামাল মিয়াসহ ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে কয়েকজন পালিয়ে গেলে আটককৃতদের হাল্লাচিৎকারে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের অপর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। উত্তর তিলকপুর জামে মসজিদের সামনে আসার পর গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এসময় ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক, সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আক্তার হোসেন, সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জালাল উদ্দিন, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও স্থানীয় বাসিন্দা জাবির আহমদ আহত হন।
আহতদের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এবং সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জালাল উদ্দিন ও কনস্টেবল মামুনুর রশিদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে পুলিশ শাওন ওরফে শামন মিয়া, কাউসার আহমদ, কামাল মিয়াসহ ৫ জনকে আটক করে। রাতেই হামলার আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে আটককৃত ৫ জনকে বুধবার ১ ফেব্রুয়ারি সকালে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.