
স্টাফ রিপোর্টার॥ ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী যুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করুন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১০ মার্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৩য় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনকে সামনে রেখে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির এক কর্মীসভা শুক্রবার ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টার সময় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিকস্পে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি নারী-পুরুষ-শিশুসহ নানা শ্রেণি পেশার সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দাড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক অবনী শর্ম্মা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংদস মৌলভীবাজার জেলা মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া।
মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ সুমন, চা-শ্রমিক সংঘের যুগ্ম-আহবায়ক হরিনারায়ন হাজরা, স’মিল শ্রমিক সংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ মোস্তাক মিয়া, মৌলভীবাজার হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মিয়া, জেলা এনডিএফের সদস্য মোঃ শাহিন মিয়া, দুলাল মিয়া, আব্দুল মজিদ, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, সোহেল আহমেদ সুবেল, পুস্প কালিন্দি, খোকন মিয়া প্রমুখ।
কর্মীসভায় বক্তারা বলেন, সমগ্র পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা এক গভীর ও সামগ্রিক সংকট, দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, আঞ্চলিক ও স্থানিক যুদ্ধের প্রক্রিয়ায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ব বাজার পুনর্বন্টন নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো যে যুদ্ধ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে ধারাবাহিক তৎপরতা চালাচ্ছে তারই প্রতিফলন ঘটছে ইউক্রেন যুদ্ধে। এই যুদ্ধের একদিকে রয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্ব সামরিক জোট ন্যাটো এবং অন্যদিকে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়াসহ তার মিত্ররা।
এছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও বৃহত সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যে অগ্রসরমান পুঁজিবাদী চীনের মুখোমুখি অবস্থান ও তাইওয়ান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তাকে চীনের রেড লাইন ঘোষণা বিশ্ব পরিস্থিতিকে উত্তেজনাকর করে তুলেছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভবনা মূর্ত হয়ে উঠেছে। সাম্রাজ্যবাদীরা জোরদার করছে সর্বাত্মক যুদ্ধ প্রস্তুতিকে। তাদের এই যুদ্ধ প্রস্তুতি থেকে আমাদের দেশও মুক্ত নয়। ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব সুতীব্র।
এ প্রেক্ষিতে রণনীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগর ও প্যাসিফিকসহ চীন সাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে চলছে যুদ্ধজনিত মুখোমুখি দ্বন্দ্ব-সংঘাত। ভূ-রাজনৈতিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেমন বাংলাদেশকে আইপিএস, আইপিইএফসহ কোয়াড প্লাস-এ যুক্ত করতে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে চলেছে তেমনি প্রতিপক্ষ চীনও বাংলাদেশকে বিআরআই-এ যুক্ত করাসহ বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশে তার প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিনের তৎপরতার প্রকাশ্য বিরোধিতা করে চলেছে।
সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ ও তার এদেশীয় দালালরা স্বীয় স্বার্থে বাংলাদেশকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়। তাই দেশের সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের বিরুদ্ধে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
কর্মীসভায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন চাল-ডাল, তেল-লবন-চিনি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ, শাক-সবজি মূল্যবৃদ্ধিসহ গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালনিতেল, বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিতে জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের মূল্য হু হু করে বাড়ছে, অথচ বাড়ছে না মানুষের আয় ও ক্রমক্ষমতা। বাজার ব্যবস্থার উপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগীর দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে, এমন কি ব্যবসায়ীরা সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ইচ্ছে মতো সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করছেন।
সরকারের সাথে যোগসাজসে ব্যবসায়ীরা চিনি, ভোজ্য তেল, ডিম, ব্রয়লার মুরগী ইত্যাদির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিচ্ছে। অথচ সরকার অসৎ ব্যবসায়ী, কালো টাকার মালিক, ঋণ খেলাপী, বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সকল দায় জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
বক্তারা সরকারের ভর্তুকি প্রত্যাহারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, ভর্তুকি প্রত্যাহার নয়, বরং খেলাপি ঋণ আদায়, কালো টাকা উদ্ধার, ঘুষ-দুনীর্তি-লুটপাট বন্ধ, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে পাচার কৃত অর্থ ফিতর এনে এবং ভ্যাটের আওতা কমিয়ে উচ্চ বিত্তের উপর প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করে ভর্তুকির পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে, জনগণের জন্য স্বল্প মূল্যে সর্বাত্মক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
কর্মীসভায় আগামী ১০ মার্চ ২০২৩ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৩য় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে কবি শহীদ সাগ্নিককে আহবায়ক এবং রজত বিশ্বাস, মোস্তফা কামাল ও অমলেশ শর্ম্মাকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট ৩য় জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.