
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কাটা, ইটভাটায় অবাদে কাঠ পুড়ানো, নদী ও পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা, হাকালুকি হাওরের ২০ হাজার গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় মামলার অগ্রগতি দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া কমলগঞ্জের সংরক্ষিত রাজকান্দি বনাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে ভূগর্ভে শুটিংয়ের কারণে প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলায় নানা কর্মকা-ে পরিবেশ ও প্রতিবেশের অবক্ষয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার পক্ষ থেকে বুধবার ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলা সমুহে বৈধ ও অবৈধ অসংখ্য ইট ভাটা রয়েছে। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে এসব অনেক ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেষে, হাটবাজার ও বসতবাড়ির সন্নিকটে এবং কৃষিজমির উপর স্থাপিত। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া প্রতিনিয়ত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্তমানে অধিকাংশ ইটভাটায় কাঠ পুড়ানো হচ্ছে এবং ইটভাটাগুলো মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ে ভূমিকা রাখছে। কমলগঞ্জের রাজকান্দিসহ জেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে অব্যাহতভাবে গাছ বাঁশ উজাড় হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন চা বাগান থেকে রাতের আঁধারে গাছ চুরির ঘটনা ঘটছে।
এতে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল ও চাবাগানের সেডট্রি। পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার দায়েরকৃত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নদনদীসহ পাহাড়ি ছড়াগুলো থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলছে। জুড়ি, বড়লেখা, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলা কেটে হোটেল, কটেজ নির্মিত হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্যের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে।
হাকালুকি হাওরের মালাম বিলে ২০ হাজার গাছ কেটে ফেলা, হাওরে বিভিন্ন বিল ভরাট করে স্থাপনা তৈরি, পাখি শিকারীদের অপতৎপরতা, চা বাগানে অবৈধভাবে রাবার চাষাবাদ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাছাড়া বোরো চাষাবাদের জন্য পরিকল্পিত উপায়ে নদী থেকে সেচ না দিয়ে কমলগঞ্জ, কুলাউড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে শত শত শ্যালো ও ডিপটিউবয়েল স্থাপনে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নামতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে বাসাবাড়ির টিউবওয়েলগুলোতেও পানি উঠছে না।
সম্প্রতি সময়ে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কমলগঞ্জের সংরক্ষিত রাজকান্দি বনাঞ্চলে ভূগর্ভে ড্রিলিং ও শুটিং কাজে বনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণিসহ পরিবেশ-প্রতিবেশের অপূরনীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার বিস্তির্ণ অঞ্চল জুড়ে পরিবেশ বিধ্বংসী নানা কার্যক্রম বিষয়ের প্রতি সমম্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান স্মারকলিপি প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.