
মোঃ আব্দুল কাইয়ুম॥ রোববার ২৩ এপ্রিল রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত ৮ ইউনিট বিশিষ্ট একটি সেমি পাকা টিনসেডের বসতঘরে ভায়বহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বসতঘরের ৫টি ইউনিটে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা মোট ৫টি পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে পথে বসে। আগুনের লেলিহান শিখায় কক্ষ গুলো ভস্মীভূত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে ওই ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হলেও মালিক পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের দাবি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাঁর চেয়ে অনেক গুণ বেশি হবে।
ঘটনার পরদিন সোমবার ২৪ এপ্রিল বিকেলে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৌলভীবাজার পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে। পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ৪টি পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবার প্রতি নগদ ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে একটি পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পরিবারকে দেয়া হয় ১০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৯০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। এ সময় সাথে ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর পার্থ সারথী পাল।
এছাড়া মঙ্গলবার ২৫ এপ্রিল পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ২০ কেজি করে চাল, তেল, পেয়াজ, লবন, আলু ও চিনিসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী প্রদান করার কথা জানিয়েছেন পৌর মেয়র ফজলুর রহমান।
মেয়র জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পৌরসভার পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া অব্যাহত থাকবে। আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে চারটি পরিবার সব হারিয়েছে। তাদের পাশে মানবিকতা নিয়ে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসারও আহবান জানান ক্লিনম্যান খ্যাত এই জনপ্রতিনিধি।
এদিকে পৌরসভার পাশাপাশি কাচ্চি কিং নামে স্থানীয় একটি অভিজাত খাবারের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও অসহায় পরিবার গুলোকে পরিবার প্রতি নগদ ২ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগের দিন রোববার ২৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে শহরের পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলার উত্তরমুলাইমের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিরাজ উদ্দিনের মালিকানাধীন ওই বসতঘরে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
এর পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে একঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ওই সময় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার যীশু তালুকদার জানিয়েছিলেন খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় একঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার। তবে কী কারণে এই অগ্নিকা- তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.