
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অভিনব কায়দায় প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গায়েল করতে কৃত্রিম যখম সৃষ্টি করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক হারবাল এসিসটেন্ট এর (গার্ডেনার) বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ হাতে নাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করছে।
জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হারবাল এসিসটেন্ট (গার্ডেনার) পদে কর্মরত রাধা গোবিন্দ পাল অর্থের বিনিময়ে যখম সৃষ্টি করে আসছেন বেশ কিছু দিন থেকে। এই কাজটি করে থাকেন ভানুগাছ বাজারস্থ তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন লাকী ফার্মেসীর ভিতর। একেকটি জখম সৃষ্টি করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। জখম সৃষ্টি পূর্বে রাধা গোবিন্দ পাল এনেসথেসিয়া ইনজেকশন প্রয়োগ করে ব্লেড দ্বারা কেটে কাজটি করেন। পরে উক্ত রক্ত মুছে কাপড় দ্বারা বেধে কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। তারই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ব্যক্তির জখমী স্থানে সেলাই ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে আদালত কিংবা থানায় গিয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর মামলা দায়ের করেন। এই রকম অসংখ্য ঘটনা রাধা গোবিন্দ পাল সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভুগি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপাড় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আমির আলীর পুত্র মোঃ লিয়াকত আলী জানান, একই এলাকার মকজ্জিল আলী গত ৭/৫/২০২৩ তারিখে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে ১টি মিথ্যা সিআর মামলা নং ২৩৪/২০২৩ (কুলা) দায়ের করেন। একই আদালতে গত ৪/৭/২০২৩ ইংরেজি কমলা বেগম বাদী হয়ে পৃথক আরও একটি সিআর মামলা নং ৩৫৩/২০২৩ দায়ের করেন। অপরদিকে লিয়াকত আলীর এক আত্মীয় মোঃ রোমান মিয়া সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হেলাল আহমদ বাদী হয়ে গত ৯/৪/২০২৩ ইংরেজি ১টি মিথ্যা সিআর মামলানং ১৭৯/২০২৩ (কুলা) দায়ের করেন।
কমলা বেগম এর দায়েরী মামলায় মোঃ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারি রয়েছে এবং মকজ্জিল আলীর মিথ্যা মামলায় ১৪দিন কারাভোগ করে জামিনে বের হন। উক্ত তিনটি মামলা করতে প্রয়োজনীয় জখম তৈরী করে দেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হারবাল এসিসটেন্ট রাধা গোবিন্দ পাল। এছাড়াও রাধা গোবিন্দ পাল আরও এধরনের অপরাধ করার অভিযোগ এলাকায় রয়েছে।
লিয়াকত আলী আরও জানান, জখমিরা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে ওই হাসপাতালের ভূয়া কাগজ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করিলে আদালতের নির্দেশে মামলাগুলি এফআইআর হয়। মোঃ লিয়াকত আলী আদলতে জামিনের প্রার্থনা করিলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তী তারিখে লিয়াকত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রাধা গোবিন্দ পালের অভিনব প্রতারণার রহস্য খুঁজে বের করতে তার ভাবী রোকসানা আক্তারকে ড্যামি সাজিয়ে ফার্মেসীতে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জখম তৈরী করে দিতে আলোচনা করলে রাধা গোবিন্দ রাজি হন। উক্ত বিষয়টি আগেভাগেই কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে তিনি অবহিত করেন।
রোকশানা বেগমকে রাধা গোবিন্দ পাল জখম সৃষ্টির উদ্দেশে ২৪/৭/২০২৩ তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে মাথায় অগ্রভাগে ইনজেকশন দিয়া মাথা কাটার প্রস্তুতি নিলে পুর্ব থেকে উৎপেতে থাকা তার আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জখম তৈরী করতে বাঁধা দিয়ে তাকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে জখমকাজ তৈরীর আলামত সহ রাধা গোবিন্দ পালকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বিষয়ে মোঃ লিয়াকত আলী বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় গত ২৪/৭/২০২৩ ইংরেজি জখম তৈরী কারী রাধা গোবিন্দ পালকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা: চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হারবাল এসিসটেন্টের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুর্দশন কুমার রায় ৩ আগষ্ট বিকেলে জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যখম সৃষ্টি কারী রাধা গোবিন্দ পালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে বেআইনী ভাবে যখম তৈরীর কয়েকটি অভিযোগ শুনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে অধিক তদন্তের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছ থেকে অনেক তথ্য কের হবে।

সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.