
স্টাফ রিপোর্টার॥ আপনারা জানেন যে, হাওড়-বাওড় নদী-নালার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিক পরিবেশ এমন যে আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশের মানুষ এর সাথে মিলেমিশে জীবনযাপন করে আসছে, এরূপ পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে ভারসাম্য রক্ষার বিপরীতে তথাকথিত উন্নয়নের নামে পরিবেশ বিধ্বংসী অবকাঠামো নির্মাণের ফলে নদীনালা, হাওর তার স্বাভাবিক অবস্থা হারিয়ে মৃতপ্রায় হচ্ছে। অন্যদিকে অধিকতর মুনাফালোভী চক্রের আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে উঠা হাওরসমূহ ধ্বংসের পায়তারা চলছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার জেলার হাইল হাওরে ফিসারী তৈরির মধ্য দিয়ে হাইল হাওরকে ধ্বংস করা হয়েছে। বুড়িখেয়ারি বাঁধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে হাকালুকি হাওরকে গলা টিপে ধরা হয়েছে। এখন হাওর কাউয়া দিঘির ওপর এইসকল মুনাফাখোরদের দৃষ্টি পড়েছে।
আমরা দেখেছি যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অতি মুনাফাখোর পুঁজিপতি শ্রেণি হাওর কাউয়া দিঘির চাষযোগ্য জমি স্থানীয় দালাল চক্রের সহযোগিতায় জমির মালিকের নিকট হতে ক্রয় করে হাওর বিধ্বংসী নানান কর্মকাণ্ড পরিচালনার পায়তারা করছে। এমন পরিস্থিতি উদ্ভব হলে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্যসহ কৃষি উৎপাদনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিবে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে, হাওর কাউয়া দিঘি ধ্বংস হবে। এতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকারকে জমি ক্রয় করা বাঞ্ছনীয়, হাকালুকি হাওর রক্ষার স্বার্থে বুুড়িকেয়ারী বাঁধ অপসারণ করা এবং কিশোরগঞ্জের হাওরে উঁচু রাস্তা তৈরির ফলে সংগঠিত সমস্যা সমাধানে রাস্তা অপসারণ করা এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা অতিব জরুরি। মুনাফালোভী পুঁজিপতি শ্রেণির নিকট জমি বিক্রি করা বন্ধ করতে সরকারি প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাওড়-বাওড়, নদী-নালা রক্ষার দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান রইল ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.