
স্টাফ রিপোর্টার॥ বড়লেখায় রিমালের প্রভাবে তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। ঝড়-তুফানে বিদ্যুৎ লাইনে গাছ পড়ে ও বৈদ্যুতির খুঁটি উপড়ে সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে প্রায় ৩৫ ঘন্টা পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে, ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৫ স্থানের সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তিন দিন ধরে জলাবদ্ধতায় উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবি কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহালেও এখনও মিলেনি সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা।
সরেজমিনে উপজেলার দোহালিয়া, পূর্ব-দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী উত্তরভাগ, পানিধার, দক্ষিণ গাংকুল, পৌরসভার হাটবন্দ, উত্তর চৌমুহনী, বারইগ্রাম, আদিত্যের মহাল, মুছেগুলসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে এবং অধিকাংশ বসতবাড়ি জলাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন কলোনিতে বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শহরের উত্তর চৌমুহনী ও পাখিয়ালা এলাকায় অনেকের দোকানপাটে পানি ঢুকে লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে গত তিন দিনের ভারিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণভাগ, রতুলিবাজার, কাঠালতলী বাজার, পানিধার, উপজেলা চত্তরের সামনের সড়ক তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি থামলে পানি নামলেও পরবর্তী বৃষ্টিপাতে পুনরায় সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, রিমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা তিনি পরিদর্শন করছেন। পৌরসভা এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখনও অনেক রাস্তাঘাট, কলোনি, বসতবাড়িতে ও দোকানপাটে পানি রয়েছে। বুধবার সকালেও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং তাৎক্ষণিক জলাবদ্ধ স্থানের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেন।সরকারিভাবে এখনও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি প্রত্যেক ওয়ার্ড কমিশনারকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করে তার কাছে পাঠানোর জন্য বলেছেন। দ্রুত সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান জানান, উপজেলার প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছেন। এখনও সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা মিলেনি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.