
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : রমজান এলেই বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকটসহ নানা সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তবে এবার আগেভাগেই বাজার নিয়ন্ত্রণে নড়েচড়ে বসেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ভানুগাছ বাজারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে দোকানে মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা, অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি এবং বাজারের সার্বিক শৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার লক্ষে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডি.এম. সাদিক আল শাফিন।
স্থানীয় ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, অনেক দোকানে এখনো মূল্য তালিকা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। মাছ, মাংস ও কাঁচা বাজারে ব্যাপক মূল্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের মজুদ বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। অপরিষ্কার পরিবেশে খাবার বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ভানুগাছ বাজার এলাকার সাবেক ব্যবসায়ী কামাল মিয়া বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান চালালে হবে না, ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। যদি কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নেয়, নোংরা পরিবেশে খাদ্য বিক্রি করে বা মূল্য তালিকা না রাখে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা উচিত।
অভিযানের সময় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও, কেউ কেউ নানা ‘অজুহাত’ দাঁড় করিয়েছেন। এক ফল দোকানি বলেন, ‘মূল্য তালিকা বানানোর সময় পাইনি, সামনে রেখে দেব।’ আরেকজন বলেন, ‘আমরা নিজেরাই বেশি দামে পণ্য কিনছি, তাই একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি প্রশাসনের অভিযানের পর নড়েচড়ে বসেছে। তারা জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে এবং বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় সমিতির পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাধারণ ক্রেতারা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। বাজার করতে আসা এক ভোক্তা বলেন, ‘রমজানের সময় সবকিছুর দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যায়। প্রশাসনের এই অভিযান নিয়মিত হওয়া দরকার। একদিনের অভিযান কোনো পরিবর্তন হবে না।’
বাজার মনিটরিং এ উপস্থিত ছিলেন ভানুগাছ বাজার পৌর বনিক সমিতির সহ সভাপতি কাজী মামুনুর রশিদ, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বাজার মনিটরিং কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন শুভ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সহ কমলগঞ্জ থানার পুলিশ।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডি. এম. সাদিক আল শাফিন বলেন, ‘রমজান এলে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু এবার প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা একদিনের অভিযান নয়। পুরো রমজানজুড়ে বাজার মনিটরিং চলবে। প্রতিটি দোকানে নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা আছে। যদি কেউ আইনের তোয়াক্কা না করে, তাহলে কেবল জরিমানা নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.