
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের কাজিরবাজারস্থ শাপলা হোটেলের শ্রমিক দিনার আহমেদ রুমনকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়। ১৭ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্টিত জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সোহেল আহমেদ। সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন আহমেদ, হোটেল শ্রমিক নেতা আহাদ আলী বাবুর্চি, সেলিম মিয়া বাবুর্চি, আলআমিন, জিয়াউর রহমান, রুহুল আমিন প্রমূখ।সভায় বক্তারা বলেন গত ১৩ জুলাই ‘চা দিতে দেরী হবে’ বলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র শাপলা হোটেলের শ্রমিক দিনার আহমেদ রুমনকে আব্বাস মিয়া ও তার ছেলেরা মিলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় আব্বাস মিয়া গ্রেফতার হলেও অপর খুনীরা অদ্যাবধি গ্রেফতার হয়নি।
নেতৃবৃন্দ শ্রমিক রুমন হত্যার সকল খুনীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন এই ঘটনার মধ্যে আবারও হোটেল শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আসে। এরআগেও মৌলভীবাজারে শিশু শ্রমিক তানিম ও ঢাকার ঘরোয়া হোটেলের কিশোর শ্রমিক রিয়াদকে হত্যা করা হলেও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করায় একের পর এক শ্রমিককে নির্মমভাবে খুন হতে হচ্ছে। মাত্র ২২ বছরের তরতাজা যুবক দিনার আহমেদ রুমন হত্যার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, জুড়ী, চট্টগ্রাম, যশোর, ঢাকাসহ সারাদেশের হোটেল শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকরা নিতান্ত জীবিকার তাগিদে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও যেমন পায় না ন্যায্য মজুরি তেমনি জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। এমন কি শ্রমিকরা শ্রমআইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগটুকুও পায় না। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে বর্তমান ঊর্দ্ধগতির বাজারদরে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারেন না। চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা।
এমতবস্থায় গত ০৫ মে ২০২৫ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেন। ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বর্তমান বাজারদর এবং ৬ সদস্যদের একটি পরিবারের ভরণপোষণের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের দাবি থেকে অনেক কম। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। শ্রমআইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য করা হয়। শ্রমিকদের দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। যার কারণে হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.