
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, ভূতুড়ে বিল, মিটার পরিবর্তনসহ নানা হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা। এ কারণে স্থানীয় শত শত গ্রাহক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কমলগঞ্জ জোনাল অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের ভেতরে এক গ্রাহকের সাথে ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ রাগান্নিতভাবে কথা বলছেন। পাশে তার ছেলে মোবাইলে গেম খেলছে। এ সময় স্থানীয় এক সংবাদকর্মী দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও ডিজিএম তার সাথে কথা না বলেই ছেলেকে নিয়ে অফিস ত্যাগ করেন।
বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সাংবাদিক সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘ডিজিএম অফিসে যোগদানের পর থেকেই খামখেয়ালি আচরণ করছেন। গ্রাহকদের কোনো সমস্যায় কর্ণপাত করেন না, নিজের ইচ্ছামতো অফিস পরিচালনা করেন। তাছাড়া রিডারম্যানরা গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে অফিসে বসেই বিল তৈরি করে দেন, ফলে অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপছে গ্রাহকদের ওপর।’
তিনি আরও জানান, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের বেশি বিল বকেয়া থাকলে নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও ডিজিএম তা না করে মামলা করেন এবং সেটি নিষ্পত্তি করতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সিহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার গত মাসে ৮০০ টাকার বিল এসেছিল, এ মাসে ৪ হাজার টাকা এসেছে। মিটার রিডিং পরীক্ষা করে দেখা গেছে ১৫০-২০০ ইউনিট বেশি বিল করা হয়েছে। অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান হয় না।’
একই অভিযোগ করেন গ্রাহক জাহেদ। তিনি বলেন, ‘আগে ২০০ টাকার বিল আসতো, এখন দুই মাস ধরে ৮০০ টাকা বিল আসছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বিদ্যুৎ বিলের ভূতুড়ে অত্যাচারে আমরা দিশেহারা।’
অভিযোগকারী গ্রাহকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ডিজিএমকে বদলি না করা হলে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করবেন।
জানতে চাইলে ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করি না। অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে কাজ চলছে, যাতে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকেই নজর রয়েছে। রিডিং অফিসে বসে করার অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.