
লন্ডন প্রতিনিধি : লন্ডনের ব্যস্ত শহরের হৃদয়ে এক সন্ধ্যায় ভেসে বেড়াচ্ছিল স্মৃতির আবেশ। ৯ই সেপ্টেম্বর, The Atrium-এ জড়ো হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশী। উদ্দেশ্য একটাই বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপকার, সাবেক সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে স্মরণ করা।
অনুষ্ঠানের স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান রেনুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: অদুদ আলম অদুদের পরিচালনায় শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন আহাদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মৃতি পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এম নাসের রহমান। আবেগে ভরা কণ্ঠে নাসের রহমান বললেন, ‘আমার বাবা শুধু একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থপতি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ।’ প্রবাসী নেতৃবৃন্দ একে একে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
ড. হাসনাত হোসেন এমবিই বললেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাস সাইফুর রহমান ছাড়া লেখা সম্ভব নয়।’ এম এ মালিক মনে করিয়ে দিলেন, ‘তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।’ ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ও প্রফেসর শাহগির বখত ফারুক একসাথে বলেন, ‘প্রবাসীদের শক্তিকে কিভাবে দেশের সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তা তিনি পথ দেখিয়েছিলেন।’
নজরুল ইসলাম বাসন অনুভব প্রকাশ করলেন, ‘তিনি শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।’ তাইসির মাহমুদ যোগ করলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমও তাঁর দূরদর্শী ভাবনার ঋণী।’ সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন মঞ্চে ওঠেন নাতনী আমেরা রহমান। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘দাদু আজও আমার পথপ্রদর্শক। তাঁর স্বপ্ন আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে আছে।’
এছাড়াও বক্তব্য দেন, এম শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, তাঁর উন্নয়ন দর্শন প্রবাসীদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। নুরুল ইসলাম, তিনি দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে নিয়ে গেছেন, যা চিরকাল স্মরণীয়। আব্দুল মুহিত খান বাদশা, তাঁর প্রজ্ঞা আজও আমাদের কাছে আলোকবর্তিকা। সায়কুল হাসান সেকুল, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিÑপ্রতিটি স্তরে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা। সোয়ালেহীন করিম চৌধুরী, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো তাঁর পরিকল্পনার ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াদ আহাদ, প্রবাসীদের হৃদয়ে তিনি চিরজাগ্রত এক আস্থার নাম।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় এম সাইফুর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের উপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র। প্রতিটি দৃশ্যে ভেসে উঠছিল তাঁর সংগ্রামী পথচলা, উন্নয়নের সোপান, আর দেশের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা। উপস্থিত দর্শকের চোখে অশ্রু ঝলমল করছিলÑইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল পর্দায়। শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম, খতিব, ব্রিকলেন জামে মসজিদ। তাঁর কণ্ঠে দোয়া উচ্চারিত হয়, হে আল্লাহ, এই মহান মানুষটির রুহকে শান্তি দাও।
নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি হলেও, উপস্থিত সবার মনে যেন একটাই উপলব্ধি স্পষ্ট হয়ে উঠল, এম সাইফুর রহমান নেই, তবুও তিনি আছেন। তিনি আছেন তাঁর স্বপ্নে, তাঁর দর্শনে, তাঁর অর্থনৈতিক মুক্তির নকশায়। যেমন নক্ষত্র অস্ত যায়, অথচ আলো ছড়িয়ে থাকে রাতের আকাশে, তেমনই তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির চিরভাস্বর নক্ষত্র।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.