
বিশেষ প্রতিনিধি : উৎসব আমেজে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের বাঙ্গালী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছে। একই সাথে পালন করা হয়েছে টাওয়ার হহ্যামলেট কাউন্সিলেরর ষাটতম বর্ষ। লন্ডন সময় শনিবার বিকেলে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজী ফলক উন্মোচনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় নতুন এ ভবনের যাত্রা।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন সিটির প্রাণ কেন্দ্রে পড়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল। যার আয়তন ৭.৬৩ বর্গমাইল। আর লোকসংখ্যা প্রায় পোনে তিন লাখ। এর প্রায় ৩৫ ভাগ মানুষ বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত। যার বর্তমান মেয়রসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত।
আর এই বাংঙ্গালী বংশোদ্ভুত মেয়র সিলেটের লুৎফুর রহমানের হাত ধরেই টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলটি স্থানান্তরিত হয় হোয়াইটচ্যাপল এলাকার রয়েল লন্ডন হাসপাতালের অব্যবহৃত ভবনে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: ইউছুফ হামিদ জানান, এখানে স্থানান্তরিত হওয়ায় কাউন্সিল অফিসের সাথে তাদের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এখন থেকে তারা সহজে এখানে আসতে পারবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করতে পারবেন।
এ উপলক্ষে লন্ডন সময় শনিবার সকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভবনটি জনসাধারণের জন্য উন্মোক্ত রাখা হয়। আর এর ভেতরে ও বাহিরে বসে মেলা। অনেক ইভেন্ট ছিল শিশু কিশোরদেরও। ছিল মিউজিক্যাল সুরের মুর্ছনা।
টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, আজ টাওয়ার হ্যামলেটসের জন্য এক গৌরবের দিন। এই ভবনটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষকে সেবা দিয়েছে, আজ সেটিই রূপান্তরিত হয়েছে টাউন হলে ু যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সেবা দেবে। তিনি বলেন, রয়েল লন্ডন হাসপাতালের এই ভবনটি ২০১৪ সাল থেকে বন্ধ ছিল। ভবনটি প্রায় সাড়ে ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ক্রয় করে কাউন্সিল এবং প্রায় ১শ ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে সংস্কার শেষে নতুন টাউন হল হিসেবে যাত্রা শুরু হয়। বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা ও বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলের ওপেন ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার। কাউন্সিলের ষাট বছর পূর্তি এবং নতুন টাউন হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় একই সময়ে।
সকাল ১০টার পর থেকে লন্ডন সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত নতুন এ টাউন হলে দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সরজমিনে দেখা যায়, আগত দর্শনার্থীদের আলাদা আলাদা দলে পুরো টাউন হল ঘুরে দেখান স্থাপতি এবং কাউন্সিলের অফিসাররা। এর আগে অতিথি ও কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এর ফলক উন্মোচন করেন নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান।
মেয়র আরো বলেন, আজ টাওয়ার হ্যামলেটসের জন্য এক গৌরবের দিল। এক ঐতিহাসিক দিন। আমাদের নতুন টাউন হল-এ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচনের সম্মান পেয়েছি আমি। এর মাধ্যমে ২৫০ বছরের পুরনো প্রাক্তন রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালকে পুনরুদ্ধার করে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আবার জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। লুৎফর বহমান বলেন, আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ যে আমি মেয়র হিসেবে এই ভবনটি অধিগ্রহণ করতে পেরেছিলাম এবং আজ আপনাদের সকলের সাথে দাঁড়িয়ে আমাদের নতুন টাউন হল উদ্বোধন করতে পারছি।
কাউন্সিলার কবির হুসাইন জানান, একই সময়ে দুই ডেপুটি ইয়ং মেয়র খাদিজা দিরির এবং ইফতি ভুইয়া বাংলায় লেখা একটি নাম ফলক উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, নিজস্ব টাউন হল করার কারণে প্রতি বছর কাউন্সিলের সঞ্চয় হবে প্রায় ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চিফ এক্সিকিউটিভ স্টিভ হৌলসি বলেন, নতুন টাউন হল শুধু একটি ভবন নয়, এটি কমিউনিটির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা আমাদের সবার জন্য গর্বের বিষয়।
নামফলক উন্মোচনে নির্বাহী মেয়রের সাথে ছিলেন ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর ম্য়াূম মিয়া তালুকদার. করপোরেট ডাইরেক্টর স্টীভ রেডি, ফ্যাসিলিটি হেড সারা স্টীয়ার্স এবং ব্যারোনেস পলাউদ্দিনসহ আরো অনেকে।
দিন ব্যাপী এ উৎসব মালায় ছিল কেক কাটা, ফটো প্রদর্শনী, বিভিন্ন কমিউনিটির সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফেস পেইন্টিং, বেলুন মডেলিং, ফিটনেস সেশনসহ নানা আয়োজন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠন এর উদ্যোগে বিভিন্ন পসরা ও খাবার নিয়ে বসেছিল স্টল।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.