
স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ৩য় জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১ টায় সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে সম্মেলনের শুরুতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড ও লাল পতাকা সহকারে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
পরে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সোহেল মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: দুলাল মিয়ায় পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মো: নুরুল মোহাইমীন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক শ্রমিকনেতা রফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও সম্মেলনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: ছাদেক মিয়া, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা। সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের কালেঙ্গা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো: গিয়াস মিয়া, মোস্তফাপুর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজান মিয়া, চাঁদনীঘাট আঞ্চলিক কমিটির খোকন মিয়া, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো: জমিম উদ্দিন, শ্রমিকনেতা মো: জামাল মিয়া প্রমূখ।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন এদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যে সরকারই অধিষ্ঠিত হয় তারা ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষা করে। সাধারণ শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের কথা তারা ভাবে না। ৫ আগষ্ট ২৪ শহুরে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিনের বিশ্বস্থ ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতাসীন করে এই সময়ে শুল্ক আলোচনায় মার্কিনের পরিকল্পনায় মানবিক করিডোর প্রদান, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা প্রদান, স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু, মার্কিন সেনা উপস্থিতি, ধারাবাহিক মার্কিন সেনাবাহিনীর মহড়া ও প্রশিক্ষণ তৎপরতা, মার্কিনের পক্ষে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা, আইপিস প্লাসে যুক্ত করা ইত্যাদি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট-এনডিএ চুক্তি সম্পাদন করে। প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়াও স্বীয় লক্ষ্যে নানামূখী তৎপরতা চালাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠোপোষকতায় অবাধ লুটপাটের কারণে ধনী ও গরীবের বৈষম্য আরও বেড়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ। সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালদের লুটপাটের কারণে দেশের আর্থিক খাত দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির এই সময়ে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ আয়ের অনিশ্চয়তা, দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, শিল্প কারখানা বন্ধ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সর্বোপরি জনজীবনের সমস্যা-সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জনসাধারণের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। উপরন্তু দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, মহাজন ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে; কখনো বা বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাতে এই বাহনগুলো উচ্ছেদের তৎপরতা চালায়। অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশা বিক্রিতে প্রশাসনকে কখনও উচ্ছেদ চালাতে দেখা যায়নি। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা না করে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ চরম অমানবিক। বর্তমানে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা এমন কি রাজধানীতেও ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল বেড়েছে, এমনকি পা-চালিত রিকশা দেশের অনেক জেলা থেকে উঠে গেছে। বাংলাদেশের শ্রমিক-কৃষক-জনতার দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা-সংকট, শোষণ-লুন্ঠন, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নয়াউপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। তাই সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ব্যতিত শ্রমিক-কৃষক-জনতার মুক্তি অর্জনের বিকল্প নেই। সম্মেলনে মো: সোহেল মিয়াকে সভাপতি, মো: দুলাল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করা হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.