
স্টাফ রিপোর্টার : তিলে তিলে গড়ে তোলা পাঁচ ভাইয়ের জমানো সপ্ন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। দেড়যুগ পূর্বে আত্মীয়দের সহায়তায় ও নিজেদের জমানো অর্থে গড়ে তোলা আধাপাকা ঘরটি এখন শুধুই ছাই। ধসে পড়েছে দেয়ালের প্রতিটি ইট। কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের বসতঘরটিতে।পুড়ে ছাই হয়ে যায় সদ্য ঘরে তোলা শতাধিক মন আমন, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, কাপর-চোপর, দেড় লক্ষাধিক নগদ টাকা ও ফার্নিচার। শুধু রক্ষা পায় ঘরে বসবাস করা মানুষগুলোর জীবন। নির্মম ও বিভৎস ওই ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর আটঘর গ্রামের নাছির উদ্দীন নামে এক সিএনজি চালকের বাড়িতে।
রোববার ৭ ডিসেম্বর রাত ৮ টার দিকে ওই সিএনজি চালকের বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘরটিতে নাসির উদ্দীন ছাড়াও তাঁর আরও পাঁচ ভাই ও এক বোনের পৃথক সংসার রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রবিবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে উত্তর আটঘর গ্রামের নাসির উদ্দীন এর বসতঘরে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। এমন দৃশ্য চোখে পড়ার পর পরিবারের লোকজন হতভম্ব হয়ে চিৎকার শুরু করেন। আগুন নেভানোর ব্যর্থ চেষ্টার পর পুরো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। এ খবর আশপাশ সহ পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। শতশত মানুষ জড়ো হন নাসির উদ্দীনদের বাড়িতে। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল, জড়ো হওয়া মানুষদের কারো পক্ষেই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের মাধ্যমে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে রাত পৌনে ৯ টার দিকে মৌলভীবাজার শহর থেকে সেখানে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। তবে তাঁর আগেই আগুনে পুড়ে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। পড়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের একঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
জানা যায়, সিএনজি চালক নাসির উদ্দীন সহ ৫ ভাই পৃথকভাবে পরিবার নিয়ে ওই ঘরটিতে বসবাস করে আসছেন। নাসির সহ দুই ভাই সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও অন্যরা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘরটিতে তাদের ৫ ভাইয়ের স্ত্রী, শিশু সন্তান, নাসির উদ্দীন এর মা ও বোন সহ অন্তত ২০ জনের মতো সদস্য বসবাস করেন।
রবিবার রাতে পরিবারের গৃহিণীরা রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত। এমন সময় হটাৎ আগুনের দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন গোটা পরিবারের সদস্যরা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.