
বশির আহমদ : ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের উৎসব। এই আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে-এটাই ইসলামের শিক্ষা এবং মানবিকতার দাবি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ঈদ বাজেট” নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন, ভিডিও ও পোস্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ বলছেন ৫০ হাজার, কেউ ৬০ হাজার, আবার কেউ এক বা দুই লক্ষ টাকার বাজেটের কথা উল্লেখ করছেন।
বাস্তবতা হলো-আমাদের সমাজে ধনী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ সবাই একসাথে বসবাস করে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তারা যখন বড় অঙ্কের বাজেটের কথা শোনেন বা দেখেন, তখন অনেক সময় তাদের মনে আক্ষেপ বা অস্বস্তি তৈরি হয়। ফলে ঈদের আনন্দ তাদের কাছে অনেক সময় চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা খুব সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই ঈদের প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হন। তাই এই বিষয়টি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীলভাবে দেখা প্রয়োজন।
একজন মানুষের ঈদ বাজেট কত হবে-এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে , যাতে একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে যাচ্ছে-তা কিন্তু সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না।
বিশেষ করে যখন এই ধরনের প্রশ্ন বা ভিডিও শুধুমাত্র ভিউ বাণিজ্য, জনপ্রিয়তা বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে করা হয়, তখন তা সমাজের মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও হীনমন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। যা ঈদের প্রকৃত চেতনা-ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আনন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঈদের মূল শিক্ষা হলো-সংযম, সহমর্মিতা এবং একে অপরের প্রতি সম্মানবোধ। তাই আমাদের উচিত সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রচার না করা, যা অন্য কারও মনে কষ্ট বা হীনমন্যতার জন্ম দেয়। বরং আমরা যদি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি, তবেই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য ও তাৎপর্য ফুটে উঠবে।
সুতরাং সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের কথা বিবেচনা করে ঈদ বাজেট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন, তুলনা বা প্রচার থেকে বিরত থাকা আমাদের সবার জন্যই শ্রেয়।
লেখক: মাওলানা বশির আহমদ, মৌলভীবাজার।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.