
মোস্তফা সালেহ লিটন : ঐক্য ও আস্থার মূর্ত প্রতীক এম পি নাসের রহমান ও সদ্য নিযুক্ত মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপিতে বইছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের হাওয়া। যে পরিবর্তনের স্বপ্ন এই অঞ্চলের জাতীয়তাবাদী আদর্শের মানুষগুলো বছরের পর বছর দেখে আসছিলেন। প্রয়াত জননেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রেখে যাওয়া সেই শক্তিশালী দুর্গে গত কয়েক বছর ধরে চলা অর্ন্তকোন্দল আর মতভেদের কারনে সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা যখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন, ঠিক তখনই এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মতো আবির্ভূত হয়েছে বর্তমানের এই সুদৃঢ় ঐক্য ও ভালোবাসার এক নজির বিহীন দৃষ্টান্ত। রাজনীতিতে তো এমনটাই হওয়া চাই। রাজনীতি কখনো সমান্তরাল গতিতে চলে না। চলার পথে ছন্দপতন হতেই পারে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম তাই বলে একে অপরের আস্থার জায়গা থেকে সরে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল এবং উপেক্ষিত হয় দলের নেতা ও কর্মীরা। জেলার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে এই ঐক্যবদ্ধ ধারাবাহিকতা থেকে আর পেছনে ফিরে যাওয়া যাবেনা। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে হাতে সময় খুব কম। পাঁচ বছর পর আবারো আমাদেরকে জনগনের সামনে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় নেতা এম নাসের রহমানকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দলের সর্বস্তরে যে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, তাতে কেবল দল নয়, সাধারণ মানুষের মনেও যেন প্রাণ ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের বিভেদ ও বৈষম্য দূরে ঠেলে দিয়ে আজ সবাই এক কাতারে সামিল হয়েছেন মাননীয় সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে।
এম নাসের রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি এই জনপদে সততা ও স্পষ্টবাদিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার রাজনীতিতে নেই কোনো পঙ্কিলতা, নেই দুর্নীতির কোনো কালিমালিপ্ত ছাপ। জেলায় একটি কথা প্রচলিত আছে 'নাসের রহমান যা বলেন, তাই করেন'। তিনি মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী নন, বরং কর্মে বিশ্বাসী। তার এই চারিত্রিক দৃঢ়তা আজ তাকে জেলার প্রতিটি মানুষের কাছে এক নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জেলা বি এন পির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে দায়িত্ব প্রদান করায় জেলার নেতা ও কর্মীদের আনন্দ যেনো 'ঈদ আনন্দে' রূপ দিয়েছে। মিজানুর রহমান কেবল একজন নেতাই নন, তিনি তৃণমূলের প্রাণ স্পন্দন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আজ অবধি কোনো দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেনি। পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং সাধারণ মানুষের সাথে সহজে মেলামেশার কারণে তিনি এই জেলার প্রতিটি আনাচে-কানাচে সমানভাবে সমাদৃত। নাসের রহমান এবং মিজানুর রহমান এই দুই ক্লিন ইমেজের নেতার সমন্বয়ে মৌলভীবাজার বিএনপির হারিয়ে যাওয়া সেই গৌরবময় ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে দিয়েছে। তাদের এই যুগলবন্দী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে জেলার প্রতিটি উপজেলায় আজ আনন্দের জোয়ার বইছে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, এই দুই অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতার হাত ধরেই মৌলভীবাজার আর অবহেলিত থাকবে না। আশা করছি, মাননীয় সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, সাধারণ নাগরিকের জীবনমান বৃদ্ধি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীরা একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমানের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। সেই সাথে প্রত্যাশা করছি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেন তোমার আপোষহীন অবস্থান আগামী দিনেও অটুট থাকে।
মৌলভীবাজারের এই জাগরণ হোক উন্নয়নের মূলমন্ত্র। আমার প্রিয় জেলা এগিয়ে যাক সমৃদ্ধির পথে।
লেখক : মোস্তফা সালেহ লিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদল।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.