
স্টাফ রিপোর্টার : মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে মজুরিসহ ছুটি, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এবং ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র-পরিচয়ত্র প্রদানসহ শ্রমআইনের সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের কুলাউড়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
২৫ এপ্রিল বিকেলে কুলাউড়ায় হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা রেলওয়ে স্টেশনের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে স্টেশন রোড, দক্ষিণ বাজার, চৌমুহনা প্রদক্ষিণ করে উত্তরবাজার এলাকায় গিয়ে সমাপ্ত হয়।
উত্তরবাজার এলাকায় কুলাউড়া হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাস, কুলাউড়া হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ছায়েদ মুন্সী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ, বড়লেখা স’মিল শ্রমিক সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল মিয়া, জুড়ী উপজেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম-আহবায়ক বাপ্পি মিয়া, হোটেল শ্রমিকনেতা গিয়াস মিয়া, হারুনুর রশিদ ভূইয়া, মো: আলাউদ্দিন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন মহান মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের দিন। মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণি ছুটি ভোগ করে থাকেন। বাংলাদেশেরও সর্বস্তরের সরকারীÑবেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা ছুটি ভোগ করে থাকেন। কিন্তু সারাদেশের হোটেল-রেস্টুরেন্টে কর্মরত শ্রমিকদের বিরাট অংশ এখনো মে দিবসের ছুটি থেকে বঞ্চিত করা হয়। নেতৃবৃন্দ বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও মে দিবসে কুলাউড়ার সর্বস্তরের হোটেল শ্রমিকদের মজুরিসহ ছুটি প্রদানের দাবি জানান।
এছাড়াও হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে বর্তমান ঊর্দ্ধগতির বাজারদরে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারেন না। চাল, ডাল, তেল, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা। অথচ শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি-বোনাস বৃদ্ধি করা হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত বছর ৫ মে ২০২৫ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করা হয়, তা বর্তমান বাজারদর এবং ৬ সদস্যদের একটি পরিবারের ভরণপোষণের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের দাবি থেকে অনেক কম। কিন্তু তারপরও গত এক বছরেও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে কার্যকর করা হয়নি। তদুপরি হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের শ্রমআইনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ১ মাসের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১৩ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। এমতাবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শ্রমমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের জন্য ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া। কিন্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিদেশনা দেওয়া পরও কুলাউড়ায় হোটেল রেস্তোরাঁ খাতে নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য করা হয়।
সমাবেশ থেকে মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে মজুরিসহ ছুটি প্রদান, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং হোটেল সেক্টরে ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.