
স্টাফ রিপোর্টার : হাওরসহ দেশের নিম্নাঞ্চলে ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপুরণ প্রদান, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ধান কাটতে কৃষি শ্রমিক নিয়োগ এবং হাওর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তপূর্বক দায়ীদের শাস্তি প্রদান ও হাওরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মৌলভীবাজার জেলার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২ মে শনিবার শহরস্থ চৌমুহনায় বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও বাসদ নেতা উজ্জ্বল রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সদস্য বিশ্বজিৎ নন্দী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব সূত্রধর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, হাওরের কৃষকদের বোরো ধানই বছরের একমাত্র ভরসা। সেই ফসল তলিয়ে যাওয়া মানে পুরো বছরের খাদ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা ভেঙে পড়া। যারা জমি থেকে কিছু ফসল কাটতে পেরেছেন, রোদ না থাকায় তারাও ধান গোলায় তুলতে পারছেন না। ব্যাংক, এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ করে কৃষকরা ফসল ফলায়। আবার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণেও অনিয়ম হয়েছে। কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সহ হাওর অঞ্চলের প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফলে বাঁধ নির্মাণ অসমাপ্ত থাকায় অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে পানিতে কৃষকের স্বপ্ন ধান তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রশাসন তেমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি। বাঁধ নির্মাণে কারা অনিয়ম এবং দূর্নীতি করল এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেটা সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন হাওরে কৃষি শ্রমিকের অভাবে তলিয়ে যাওয়া ধান উত্তোলন করা যাচ্ছে না। আমরা সেই ফসল তুলতে সরকারি উদ্যোগে কৃষি-শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কৃষককে সহযোগিতা করার দাবি রাখছি। প্রধানমন্ত্রী যদিও সংসদে বলেছেন কৃষকদের প্রতি সরকারের সহযোগিতা থাকবে তবুও আমরা জোর দাবি রাখছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের করতে হবে। হাওরে মূলত বোরোধানই একমাত্র ফসল আবার ভূমিহীন বা প্রান্তিক কৃষকরা জমির মালিকেরা কাছ থেকে টাকা দেওয়ার চুক্তিতে বা বর্গা নিয়ে চাষ করে ফলে সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে হবে এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মৌলভীবাজারের কাউয়া দিঘি হাওরের কৃষি সম্প্রসারণের যে কাশিমপুর পাম্প হাউস আছে সেটা সার্বক্ষনিক চালু থাকলে কাউয়া দিঘি হাওরের ধান পানিতে তলিয়ে যেত না। কাশিমপুর পাম্প হাউস চালু রাখতে যে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার সেটা সরবরাহ করে পাম্প হাউসকে সচল রাখার দাবি আমরা জানাচ্ছি এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কৃষকদের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক নিয়োগের দাবি রাখছি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.