
স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শেরপুর সড়কের শেরপুর গোলচত্বর এলাকায় পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মহসড়ক অবরোধে অচল হয়ে পড়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক।
রোববার ১০ মে সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
মৌলভীবাজার জেলা বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ থেকে পরিচালিত ‘হবিগঞ্জ সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস’ নামে কিছু বাস ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে চলাচল করছে। এসব বাসকে সিলেট অভিমুখে যেতে বাধা দিয়ে শেরপুর গুলচত্বরে অবস্থান নেন তারা।
অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আবার কেউ দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিরতিহীন সার্ভিস’ হিসেবে অনুমোদন পাওয়া বাসগুলো বাস্তবে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী ওঠানামা করছে, যা পরিবহন নীতিমালার পরিপন্থি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এসব বাস চলাচল করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাবি, আন্তঃজেলা পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অন্য জেলার অভ্যন্তরে যাত্রী পরিবহন করায় স্থানীয় বাস ও মিনিবাস ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় অনেক মালিক কিস্তি পরিশোধ ও শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের খেসারত সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। অবরোধে আটকে পড়া কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায়। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিছুর রহমান বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ফিটনেসবিহীন ও অভিযোগ থাকা বাসগুলো কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কে চলাচল করছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতি নাকি প্রভাবশালী কোনো মহলের ছত্রছায়া—তা নিয়েও জনমনে নানা আলোচনা চলছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.