
আউয়াল কালাম বেগ : রাজনগরে সরকারি প্রাথমিক ৭২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, ৬৮টি সহকারী শিক্ষক পদ খালি যে তাইনা সহকারী শিক্ষা অফিসারের পদ খালি রয়েছে। তাছাড়া অফিস স্টাফ কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে এবং ১১টি চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায় এ উপজেলায় ১৪০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭২ টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ৬৮ জন সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন থেকে শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের ভার বহন করছেন বছরের পর বছর। জানাগেছে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ১০ থেকে ১২ বছরও শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ হচ্ছে না। বিদ্যালয় সুত্র থেকে জানাগেছে শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা ১৯ বছর ও শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫ বছর আরোও কয়েকটি বিদ্যালয় টানা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে থাকায় অফিসের নথিপত্র সামলানো প্রশাসনিক দৌড় ঝাপ শেষে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেক শিক্ষক নানা কারনে ছুটিতে চলে গেলে তখন ওই সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা আরও প্রকট হয়। এতে ২/৩ জন শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে হিমশিম খেতে হয়।
তাছাড়া ৮৮টি বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী না থাকায় শিক্ষককেই করতে হয় সকল কাজ। কেমসহস্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রমনি বৈদ্য বলেন, উপবৃত্তির কাজে শহরে এসছি কম্পিউটারের দোকানে, বিদ্যালয়ে রেখে এসেছি মাত্র দুইজন শিক্ষক তারা ১০৬ ছাত্রকে সামলানো অনেক কষ্ট হয়। সকল সমস্যায় সম্পূর্ণ ভাবে ভেংগে পড়েছে। এ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা তাই বাদ্য হয়ে কমলমতি সন্তানকে বিত্যবান পরিবারের অভিবাকরা বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চলছে মারাত্মক জনবল সংকট। অফিসটিতে মোট ছয়জন স্টাফ কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। অফিস সূত্রে জানা যায়,শূন্য পদগুলো হচ্ছে উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী, অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারী তিন জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন একজন তিনি হলেন গনেশ রজপ। জনবল সংকটের কারণে পুরো শিক্ষা অফিস তিনিই এককভাবে সব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম শারীরিক ও মানসিক চাপে ভুগছেন বলে জানাগেছে।
৬ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুইজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধিনে ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মনিটরিং করা দুজন সহকারী শিক্ষা অফিসারে জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসুযোগে শিক্ষকরা খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন।
উপজেলার ১২টি চা বাগানের ১১টিতে আজও কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি। বিদ্যালয়বিহীন চা বাগানগুলো হলো-রাজনগর, লোয়াইউনি (আংশিক) হাজিনগর, শফিনগর, কাশিপুর, ইটা, উত্তরভাগ - ইন্দানগর, উদনা, করিমপুর, চান্দভাগ ও আমিনাবাদ চা বাগান। এসব বাগানে বসবাসরত হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের শিশুরা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কোথাও বাগান কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত নামমাত্র বেসরকারি স্কুল থাকলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক কিংবা মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে পড়ছে বিপুল সংখ্যক শিশু। চা শ্রমিক শান্তা কানু, বাসন্তি নুনিয়া, রিপা কর, ছালেখা বেগম আক্ষেপ করে বলেন আমাদেরও ইচ্ছা সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলার কিন্তুু আমরা চা শ্রমিক যুগে যুগে অবহেলার শিকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষে এই সংকট নিরসনে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বাগানের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের বিশ্রামের সুযোগ নেই ছুটির দিনেও বড়সাব ( ম্যানেজার) আমাদের দিয়ে করান বাজার সদাইসহ পারিবারিক সকল কাজ।
রাজনগর চা বাগান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, চা বাগানের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন হলে উপ বৃত্তিসহ সরকারি সুযোগ সুবিদা পেলে চা শ্রমিকের সন্তানরা বিদ্যালয়মুখি হবে, ঝড়ে পড়া রোধ হবে তিনি আরোও বলেন বিদ্যালয় জাতীয়করন হলে ভালো কারিকুলাম দ্বারা পাঠদান দিয়ে অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভালো ফলাফল করতে পারবো।
রাজনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল জলিল তালুকদার বলেন, চা বাগান এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যােগ নিলে চা বাগান এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব হবে। তিনি আরোও বলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে প্রাথমিক শূন্য পদসহ সকল সমস্যার বিষয় অবগত করে থাকি। খুব শীঘ্রই এই সংকটের সমাধান হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.