
সাইফুল ইসলাম : শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাঁচ তারকা রিসোর্ট ‘গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ’-এর পেশাদার জনসংযোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে একযুগ পেরিয়ে এলেন সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী পলাশ চৌধুরী। ২০১৩ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
বিগত বছরগুলোতে হোটেল ইন্ডাস্ট্রির একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তাঁর কাজে অবদান রেখে চলেছেন। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক, ভিভিআইপি, সিআইপি, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক পদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সাথে তাঁর স্বভাবসুলভ হাসি ও ব্যবহারে মুগ্ধ করে রাখার চমৎকার গুণাবলিতে প্রিয়ভাজন হয়েছেন। পর্যটক বা সংশ্লিষ্টদের জন্য তাঁর চিন্তার ঝুলিতে, সমস্যার চাইতে সমাধান আছে বেশি। আন্তরিকভাবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন খুব সহজে, নীরবে। পর্যটন অঞ্চল শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ দেখা যায় সম্প্রতি তাঁর লেখা ফিচারগুলোতেও।
তাঁর সম্পর্কে সিনিয়র সাংবাদিক শান্তা মারিয়া লিখেন, ‘মুক্তকণ্ঠে আমার সুদর্শন সহকর্মী পলাশ চৌধুরী একবার বলেছিলেন, কর্মক্ষেত্র বদলে যাবে কিন্তু সম্পর্কটা চিরকালীন। কথাটা কত সত্যি তা বুঝেছি এই চব্বিশ বছরে। কত পত্রিকায়, কত মিডিয়ায় চাকরি করলাম কিন্তু যে কলিগদের সঙ্গে একবার বন্ধুত্ব হয়েছে তাদের সঙ্গে সেই আন্তরিকতা রয়ে গেছে অমলিন।’ বোঝা যায়, সম্পর্ক বিনির্মাণ যে একটি আর্ট, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আগেই।
পলাশ চৌধুরীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন সম্পর্কে জানা যায়, নিউইয়র্কে সময় টিভির সিনিয়র সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকীর ফেসবুক পোস্টে, তিনি লিখেছেন, ‘পলাশ চৌধুরী আমাদের সময়ের দারুণ এক কবি, সাংবাদিক, সম্পাদক। আমি তাঁর কাছ থেকে প্রথম শিখেছি, কোনো লেখার শিরোনামে কিভাবে রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করতে হয়! আজ আবারও তাঁর লেখা পড়ে মুগ্ধ হলাম। তিনি কী জানেন, তিনি আমার একজন মেনটর?
ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৯০ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন পলাশ চৌধুরী। সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক হিসেবে তিনি শব্দ-আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শিশুতীর্থ-আনন্দধ্বনি সঙ্গীত বিদ্যায়তনের সংগঠক। জাতীয় আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের জেলা ও কেন্দ্রের সাথে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।
তাঁর সাংবাদিকতার শুরু ১৯৮৯ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজ পত্রিকায় ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে। সেই থেকে গত ৩৭ বছরে কাজ করেছেন চট্টগ্রামে গণসাহায্য সংস্থা, ঢাকায় বেক্সিমকো মিডিয়ার দৈনিক মুক্তকন্ঠ, ট্রান্সকম মিডিয়ার দৈনিক প্রথম আলো, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, পাক্ষিক আনন্দ বিনোদন, প্রাচীন টেলিফিল্ম সবশেষে মেঘনা গ্রুপের একাত্তর টেলিভিশনে ছিলেন সিনিয়র নিউজরুম এডিটর। সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও এমআরডিআইতে।
এছাড়াও, বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতির আজীবন সদস্য ও ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটর্স কাউন্সিল, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারে সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
টেলিভিশনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় রাবেয়া খাতুনের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘মধ্যরাতে সাতমাইল’কে নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। নাটকটি প্রচারিত হয় চ্যানেল আই ও বিটিভিতে। নির্মাণ করেছেন টিভি স্পট। সাংবাদিক হিসেবে তিনি যুক্ত আছেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি), প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কালচারাল জার্নালিষ্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি)তে। লেখালেখি করছেন, চ্যানেল আই অনলাইন এবং জাতীয় সাপ্তাহিক ঢাকা নিউজ টুয়েন্টিফোর-এ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.