
মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়ার উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ এলাকায় একটি গ্রামীণ রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন।
সোমবার ১৫ জুন দুপুরে রাস্তা কাটার প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য দেন হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিধান দত্ত, সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মিয়া, সমাজসেবক ধীরেন্দ্র দাস, শরবিন্দু সেন, চক রনচাপ সার্বজনিন কালাচাঁদ মন্দিরের সভাপতি অপু দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নিকেন্দু দে প্রমুখ বক্তব্য দেন। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের কাছে রাস্তা উদ্ধার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ এলাকায় সার্বজনিন কালাচাঁদের (দেবালয়) তলির রাস্তা দিয়ে স্থানীয় এলাকার লোকজন নিয়মিত যাতায়াত করেন। এছাড়া ওই রাস্তার পূর্ব পাশের্^ অবস্থিত সনাতন ধর্মালম্বীদের দেড়শত থেকে দুই শত বছরের পুরনো কালাচাঁদের একটি তলি রয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মের লোকজন এ রাস্তা ব্যবহার করে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সেখানে করে থাকেন। রাস্তার শুরুর দিকে সরকারি বরাদ্দে ইটসলিংয়ের সংযোগ রাস্তা রয়েছে। সনাতন ধর্মের লোক ছাড়াও মুসলমান ধর্মের লোকজন তাদের প্রয়োজনে এই রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু চক রনচাপ এলাকার বাসিন্দা প্রভাবশালী আব্দুল জলিলেল ছেলে রাশেদ খানসহ তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সম্প্রতি প্রায় ৮০-১০০ ফুট জায়গা জুড়ে রাস্তা কেটে দেন। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দেবালয়ে যাওয়া মহিলাসহ স্থানীয় লোকজন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল জলিলের ছেলে রাশেদ খান বলেন, রাস্তার জমিটি আমাদের মালিকানাধীন। নিজেদের চাষাবাদের প্রয়োজনে রাস্তাটি কেটেছি। বিস্তারিত জানতে হলে সাক্ষাতে বলবো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিধান দত্ত বলেন, আমার এই এলাকায় সনাতন ধর্মের লোকদের বসবাস বেশি এবং প্রাচীনতম কালাচাঁদের তলিতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। তলিতে নিয়মিত অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি হয়। কিন্তু রাস্তা কেটে ফেলার কারণে গত কয়েকদিন থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মের মহিলাসহ পুরুষ লোকজন তলিতে গিয়ে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে পারছেননা। স্থানীয় ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হলেও আব্দুল জলিলের ছেলে রাশেদসহ তার সহযোগিরা রাস্তাটি কেটে দেন।
হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর আহমদ চৌধুরী বুলবুল বলেন, রাস্তার বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ আব্দুল জলিল গংয়ের সাথে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত দেয়া হয় এলাকাবাসীর স্বার্থে তারা যেন রাস্তাটি পুনরায় ভরাট করে দেয়। কিন্তু তারা কথা রাখেননি। বিষয়টি স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, রাস্তা কাটার লিখিত অভিযোগ পেলে রাস্তা উদ্ধারের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.