
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্টু সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, ঢাকা মহানগর হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত শ্রমিকনেতা বাদশা মিয়ার ৩২-তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
৩০ জুন সন্ধ্যায় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্টিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো: সুহেল মিয়া। এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, সহ-সভাপতি শাহিন আহমদ ও জামাল মিয়া মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মোঃ গিয়াসউদ্দিন, চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুভাষ গৌড়, হোটেল শ্রমিকনেতা সিরাজুল ইসলাস সিরাজ, আলমগীর মিয়া, রুহুল আমিন রোহিত, আশরাফুল আলম খোকন প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন প্রয়াত বাদশা মিয়া রংপুরের প্রত্যন্ত এক দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্রের কষাঘাতে শৈশবেই মাতৃহারা বাদশা মিয়াকে জীবন সংগ্রামের জন্য ঢাকায় চলে আসতে হয়। প্রথমে হকার ও পরবর্তীতে হোটেল শ্রমিকের কাজ নেন। কিন্ত যখন যে পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন, সেখানেই শ্রমিকদের উপর শোষণ-নিপীড়ণ বঞ্চণা বাদশা মিয়াকে তাড়িত করতো। সেই তাড়ানা থেকেই তিনি ঢাকা মহানগর হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত হন। সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি আত্ননিয়োগ করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শুধু অর্থনীতিবাদী আন্দোলন করেই শ্রমিকশ্রেণির সার্বিক মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। শ্রমিকশ্রেণির সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে শ্রমিকশ্রেণির আদর্শিক রাজনীতি ও সংগঠন প্রয়োজন। তাই তিনি সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ-আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী সংগঠন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং ফ্রন্টের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি এদেশের জনগণের শত্রু সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ-আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন সকালে আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৩০ বছর বয়সে হোটেল শ্রমিকদের প্রাণপ্রিয় নেতা বাদশা মিয়া অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
সভায় বক্তারা আরও বলেন বর্তমান সময়ে হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য চলমান আন্দোলনকে অগ্রসর করতে গেলে বাদশার মত সৎ, সংগ্রামী, আদর্শিক নেতার প্রয়োজন যা গড়ে তুলতে গেলে বর্তমান নেতৃত্বকে সাহসের সাথে বাদশা মিয়ার মত আদর্শ, সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগী, সংগ্রামী এক ঝাক নেতৃত্বমন্ডলী প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংগ্রামের মাধ্যমে এবং সকল অন্যায়-অবিচার, অসৎ নেতৃত্বকে বর্জন করে সৎ, সংগ্রামী, ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শ্রমিকশ্রেণির আদর্শকে ধারণ করে এই- চাকরির নিশ্চয়তা, জীবনে নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে হবে।
সভায় এক প্রস্তাবে সম্প্রতি রংপুরে হোটেল শ্রমিক শাওন হত্যাকারী হোটেল মালিক মিজানুর রহমান মনুকে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণালাল সরকারের হামলাকারী সন্ত্রাসী রাজুকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.