
জুড়ী প্রতিনিধি : জুড়ী উপজেলার হোছন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিরেশ রুদ্র পালের বিরুদ্ধে রোববার ১৬ আগস্ট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালিন ভূমি দাতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান সোমবার ১৭ আগস্ট দুপুরে জানিয়েছেন সরেজমিনে তদন্ত কর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হোছন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও পুর্ব-জুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন লিখিত অভিযোগে বলেন, অতি আগ্রহ নিয়ে তিনি ও তার ভ্রাতারা ২০০২ সালের দিকে ভূমিদান করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রতিষ্ঠার ৩ বছরের মধ্যে বিদ্যালয়টি উপজেলার শ্রেষ্ট বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে সরকার উক্ত বিদ্যালয়ে ২০টি ল্যাপটপ প্রদান করে। একসময় তিনি স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র গমণ করেন। এরপর কিছুদিন বিদ্যালয়টি ভালভাবে পরিচালিত হলেও তার অবর্তমানে প্রধান শিক্ষক বিরেশ রুদ্্র পাল নানা অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন। ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষাথীদের নিকট হতে কোচিং ফি বাবত জনপ্রতি তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন। অনেক গরীব ছাত্র-ছাত্রী কোচিং ফি দিতে না পারায় তাদেরকে কোচিং থেকে বঞ্চিত করেন। এতে এসএসসির ফলাফলে প্রভাব পড়ে। ২০২৩ সালে কোচিং ফি বাবদ জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে আদায় করেন। এতে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা, শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান ও সহকারি শিক্ষকদেও সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমূখি হতে থাকে। প্রতিবছর পাসের হার উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্নে থাকছে। ২০২০ সালে সরকার প্রদত্ত ল্যাপটপের মধ্যে একটি ল্যাপটপ চুরি হয়ে যায়। তিনি জানতে পেরে সাথে সাথে প্রধান শিক্ষককে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানালেও রহস্যজনক কারণে নীরব থাকেন। পরবর্তীতে বিগত ২০২১ সালের ১৪ আগস্ট রাতে স্কুলের সরকার প্রদত্ত আরো ৪টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ওই সময়ও প্রধান শিক্ষককে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি গড়িমসি করে সময় ক্ষেপন করেন। ঘটনার ১২ দিন পর আমেরিকা থেকে ওসির সাথে যোগাযোগ করে থানায় মামলা করান। এতে প্রমাণ হয় ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় তার যোগসাজশ থাকতে পারে। এছাড়া বিদ্যালয়ের দরিদ্র তহবিলে এলাকার প্রবাসিগণ ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ৫০০০/১০০০০ টাকা করে দান করেন। গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন, বই কেনা কিংবা ফরম ফিলাপে ব্যয় করার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক মনগড়াভাবে ব্যবহার করেন। যা আত্মসাতের সামিল। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা উক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে দুরবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রধান শিক্ষককে নগদ ৬৫ হাজার টাকা দেন মো. গিয়াস উদ্দিন। তাকে মালামালের রশিদ প্রদানের কথা থাকলেও তিনি কোনো রশিদ দেননি। প্রকৃত পক্ষে তিনি মালামাল ক্রয় না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন। চলিত বছরে কোচিং বাবদ এক লাখ চার হাজার টাকা ছাত্র-ছাত্রীর নিকট হতে আদায় করে স্কুলের অন্য কোন শিক্ষককে না দিয়ে তিনি সম্পুর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। ইতিপূর্বে কাতার প্রবাসী শরিফুল হক সাজু ও আমেরিকা প্রবাসী জহির খান স্কুলে ২টি প্রজেক্টর দান করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ব্যবহার করছেন না।
প্রধান শিক্ষক বিরেশ রুদ্র পাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রত্যেক খাতের ব্যয়ের নথিপত্র বিদ্যালয়ের অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করেননি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.