
স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারের প্রবীণ রাজনীতিক, ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের তুখোড় নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব গণআন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আলাউর রহমান চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন।
১৯৬৯-৭০ সালের উত্তাল রাজনৈতিক সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় ও তুখোড় নেতা হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আলাউর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক ও ছাত্র জীবনের সঙ্গে মৌলভীবাজারের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি মৌলভীবাজার কলেজের ১৯৬৪ সালের ছাত্রসংসদের মিলনায়তন সম্পাদক ছিলেন। সে সময় মৌলভীবাজারে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। শহীদ মিনার নির্মাণের সেই সময়কার নানা ঘটনা তিনি পরবর্তী সময়ে স্মৃতিচারণ করে তুলে ধরেছেন।
ষাটের দশকের শেষভাগে স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন ছাত্রসমাজের আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব স্থানীয় কর্মী হিসেবে তিনি রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে স্থানীয় ভাবে পরিচিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যু সংবাদে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক ছাত্রনেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, আলাউর রহমান চৌধুরীর মতো প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের অবসান।
২৬ আগস্ট বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় টিকরবাড়ির টিলায় তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মৃত্যুতে মৌলভীবাজারবাসী হারালেন আন্দোলন-সংগ্রামের এক প্রবীণ সহযোদ্ধাকে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অবদান স্থানীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.