
মোস্তফা সালেহ লিটন : বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখনই কোনো স্বাধীন ও নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখনই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল এবং কিছু প্রচার মাধ্যমের অহেতুক উদ্বেগের কারন পরিলক্ষিত হয়। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে যে সমালোচনা ও মিডিয়া ট্রায়ালের অবতারণা করা হয়েছে, তা স্বাভাবিক ভাবে কৌতূহল নাকি নির্দিষ্ট কোনো ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের ভেতরে ঘূর্নিপাক খাচ্ছে।
বিগত ছয় মাস ধরে হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ এই সময়কালে তাঁর নাগরিকত্ব বা যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি কিন্তু যখনই বাংলাদেশ ‘মক্কা নিরাপত্তা চুক্তি’ বা অনুরূপ বিশ্বমঞ্চের স্বাধীন কৌশলগত জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আলোচনায় রাষ্ট্রের সার্বভৌম অবস্থান ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা উপস্থাপন করলেন ঠিক তখনই হঠাৎ করে তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের ঝড় তোলা হলো। হঠাৎ করে এ বিষয়টিকে সামনে এনে তার অবস্থানকে বিতর্কিত করা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত কি না, সেই বিষয়টি ও ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন ও সংবিধানের প্রশ্নে, রাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থ ও বিশেষ প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিকে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করার দৃষ্টান্ত ও সুযোগ থাকে। সার্বভৌম রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির দেশপ্রেম, কাজের দক্ষতা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর দৃঢ়তা।
বিগত ফেসিষ্ট সরকারের সময় সাবেক আওয়ামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বা হাছান মাহমুদের মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বিদেশী পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কতিপয় গণমাধ্যম গুলোকে কখনোই এমন অনমনীয় ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। অথচ আজ যখন একটি নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশকে নতুন পথচলার মধ্য দিয়ে নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে ঠিক তখনই একটি বিশেষ গোষ্ঠী একটি দেশের সরাসরি দালালীর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কোনো আঞ্চলিক শক্তির চশমায় নিজেরদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। ভারতের সাথে সম্পর্ক যেমন নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে বজায় থাকবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অন্য যে কোনো জোট বা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তি নির্ধারিত হবে জাতীয় চাহিদানুযায়ী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নীতির আলোকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের এই অবস্থান মূলত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যাশারই প্রতিফলন।,সমালোচকদের এই অতি কথন মূলত বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন । এসব তথা কথিত দালালদের চরিত্র এখন দেশের মানুষের কাছে উম্মেচিত হয়ে গেছে সুতরাং কোন ষড়যন্ত্রই এখর আর কাজে আসবে না।
লেখক : মোস্তফা সালেহ লিটন, চ্যানেল এস (ইউকে) কার্ডিফ প্রতিনিধি ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্র নেতা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.