
এহসান বিন মুজাহির : দ্বীনের দাওয়াত, আত্মশুদ্ধি ও হিদায়াতের বার্তা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে শ্রীমঙ্গলে ইসলাহী মাহফিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় আজিমুশ্বান ইসলাহী ইজতেমা সফল করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভানুগাছ রোডস্থ মহসিন অডিটোরিয়ামে এ মাহফিলের আয়োজন করে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা। এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে অডিটোরিয়াম মুখর হয়ে ওঠে।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বরুণার পীর ও আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর, শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতী মুহাম্মদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী বলেন, দ্বীনের আলো মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক বিভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে কুরআন-সুন্নাহর আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আলেম-উলামা ও দ্বীনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে আন্তরিকতা, ঐক্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন। দ্বীনবিমুখ মানুষকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনা, সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনের আবশ্যিক বিষয়াবলি শিক্ষা দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে ইসলাহ ও হিদায়াতের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইসলামের দাওয়াত, সংগঠন, সুশিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সৃষ্টিজগতের সেবা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ—এসব বিষয়কে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।
মাহফিলে সংগঠনের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা হায়দার আলীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শাখার নাজিম ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফিজ মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাফিজ মাওলানা শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী এবং মৌলভীবাজার জেলা নায়েবে আমীর শায়খ ফজলুর রহমান মৌলভীচকীসহ অন্যান্য অতিথিরা।
কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাফিজ মাওলানা শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী বলেন, কুতবে দাওরান, মুজাদ্দিদে যামান ও খলীফায়ে মাদানী আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.) ১৯৪৪ সালে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুসলিম জনসাধারণের ধর্মীয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে সংগঠনটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আর্তমানবতার সেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় ইসলাহী ইজতেমা দ্বীনের দাওয়াত, আত্মশুদ্ধি ও হিদায়াতের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মহতী প্রয়াস। এ আয়োজন সফল করতে সংগঠনের সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তারা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি, দাওয়াত এবং প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দ্বীনের পথে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজে নৈতিকতা ও মানবিকতার চেতনা জাগ্রত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, দ্বীনদরদি মুসল্লি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক দায়িত্বশীল, কর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ সময়ের এ ইসলাহী মাহফিলে বয়ান, নসিহত ও দ্বীনি আলোচনায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে আত্মশুদ্ধির প্রত্যয়, দ্বীনের পথে চলার আকাঙ্ক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ইসলাহী ইজতেমা সফল করার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ পায়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.