
জুড়ী প্রতিনিধি : জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকায় ২৮২ শতক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে চুনু লাল দাসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু দলবলসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ঘটনার পর থেকে ওই জায়গায় বসবাসরত ১৭টি পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. নূরুল ইসলামের বাবা মৃত আব্দুল হাছিব ১৯৬৩ সালে জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্দ্র কুমার দাসের কাছ থেকে ২৮২ শতক জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর থেকে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
তাদের দাবি, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর জমিটি হিন্দু সম্পত্তি হিসেবে শত্রু সম্পত্তি (এনিমি প্রপার্টি) তালিকাভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার জমিটি বৈধভাবে বন্দোবস্ত দেয়। এরপর থেকে বর্তমান মালিকরা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলেরা ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ নিয়ে মৌলভীবাজারের সহকারী জজ আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা এবং যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মালিকানা ঘোষণার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও গত ২৬ আগস্ট নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে চুনু লাল দাসের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ রয়েছে বলে দাবি করে চুনু লাল দাসকে জমি দখলে সহযোগিতার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই জমিতে বসবাস করছি। আমাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি জায়গাটি আমাদের না হয়, তাহলে এতো বছর ধরে আমরা এখানে কীভাবে বসবাস করছি? আর যদি উচ্ছেদের রায় হয়ে থাকে, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় না এসে কেনো জোর করে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে?
তারা আরও বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবো। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
এদিকে নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে চুনু লাল দাস দাবি করেন, এটি আমাদের জায়গা। আদালত উচ্ছেদের রায় দিয়েছে। তবে এমপির নির্দেশের কারণে তিনি উচ্ছেদে যাননি বলেও দাবি করেন চুনু। কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ১৭টি পরিবার তারা এখানে দীর্ঘদিন ধরেই বসবাস করে আসছে। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ভিডিও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে উত্তেজিত হয়ে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এমপি সাহেব বলেছিলেন, তাই আমরা গিয়েছিলাম। আপনারা সঠিক কাগজপত্র দেখে রিপোর্ট করেন।
তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বলেন, এলাকায় হিন্দু ও মুসলিমদের যাতে জায়গা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমি চেয়েছিলাম বিষয়টি উচ্ছেদ না হয়ে সমাধান হয়ে যায়। যেহেতু হয়নি, সেহেতু আমি তাদের আইন অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলে দিয়েছি।
এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া এবং আদালতে চলমান মামলার মধ্যে ১৭টি পরিবারের বসবাস ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.