
আব্দুর রব : জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাঠিটিলা এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষে সফলতা পাচ্ছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম। শখের বশে শুরু করা তরমুজ চাষের সাফল্যে তরুণ পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম স্বপ্ন দেখছেন বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষের ।
হারভেস্ট পদ্ধতিতে চাষ করা তার ক্ষেতে এবার ফলন হয়েছে ছয় জাতের তরমুজের। এর মধ্যে রয়েছে লিওনা, সান গোল্ড, রবি বাহির আংশিক ডোরাকাটা, সাম্মাম, হানি ডিউ ও ল্যানফে জাতের তরমুজ।
ক্ষেতজুড়ে সারি সারি হলুদ, সবুজসহ বাহারি রঙের তরমুজ আর ভাল ফলনে ভরে ওঠা গাছ দেখতে খোরশেদের ক্ষেতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও দর্শনার্থীরা। উদ্যোক্তা খোরশেদের দাবি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রচলিত চাষাবাদের পাশাপাশি নতুন জাতের তরমুজ চাষেও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ফলন দেখে আশাবাদী হই। এখন পর্যন্ত নিজের ফলানো তরমুজ বিক্রি করিনি, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত জনদের গিফট করছি। সবাই প্রশংসা করছেন এবং বৃহৎ পরিসরে চাষের উৎসাহ দিচ্ছেন। সঠিক প্রশিক্ষণ, সরকারি আর্থিক সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে তরমুজের চাষ করতে চাই।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান জানান, জুড়ী এলাকার মাটি ও আবহাওয়া বিবেচনায় আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তারা কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ও নতুন জাতের ফসল নিয়ে এগিয়ে এলে কৃষিতে বৈচিত্র আসবে। কয়েক বছর ধরে খোরশেদ আলম আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। বিশেষ করে তিনি হলুদ তরমুজ ফলাচ্ছেন, যা অত্যন্ত পুষ্টিগুন সম্পন্ন ও চড়া দামের ফল ও সবজি।
কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। খোরশেদ আলমের মত তরুণ উদ্যোক্তাদের সফলতা দেখে অন্যরাও আধুনিক কৃষিতে আগ্রহী হবেন। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে জুড়ীর কৃষিতে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.