
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : দারিদ্র্য ও শত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে কমলগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী রেশমি আক্তার সুমাইয়া।
কিন্তু অভাবের তাড়নায় এই সাফল্যের আনন্দ ম্লান হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাতে গিয়ে যখন তার সামনে অনিশ্চয়তার দেয়াল, ঠিক তখনই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেশমির বাবার উপস্থিতিতে এ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার।
জানা যায়, চরম আর্থিক সংকটের কারণে ওই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি জানার পর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার। তিনি ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক উদ্যোগে ওই শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি এবং পড়ালেখা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন সময়োপযোগী ও মানবিক সহায়তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই রক্ষা করেনি, বরং সমাজের অন্যান্য বিত্তবানদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সুধীসমাজ মনে করে, প্রশাসনিক পদে থেকে এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেধাবী অথচ দুস্থ শিক্ষার্থীদের এভাবে পাশে দাঁড়ালে কোনো শিশুই অর্থাভাবে ঝরে পড়বে না।
দারিদ্র্য হয়তো পথকে কঠিন করতে পারে, কিন্তু অদম্য মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর মানবিক মানুষের একটু সহযোগিতায় যে কোনো স্বপ্নই যে জয় করা সম্ভব, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই উদ্যোগ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
উল্লেখ্য, রেশমি কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাওসার আহমেদ ও রোশনা আক্তার দম্পতির কনিষ্ঠ কন্যা। চলতি বছর কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পুরো বিদ্যালয় থেকে যে দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, রেশমি তার মধ্যে অন্যতম।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার জানান, অর্থাভাবে যেন কোন মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস যেন রেশমির ভবিষ্যৎ গড়ায় কাজে আসে, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো, কমলগঞ্জে না থাকলেও।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.