
জুড়ী প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন’ (ডব্লিউআইসিই)-এ অংশ নিয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেছে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি ও তার দল ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’। তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের নাম ‘এআই মিলিটারি রোভার’।
ইন্দোনেশিয়ান ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইওয়াইএসএ) ও মালয়েশিয়ার সেগি ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পেটালিং জায়ার সেগি ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটি।
ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পচ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত সদস্য জাহেদ হোসেন তাজিনের ছেলে। সে সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক পর্বের জন্য ৫১৭টি দল নিবন্ধন করে। অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে এতে অংশ নেয় ৫ হাজারেরও বেশি তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবক। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে ২৩টি দল অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এর মধ্যে সিলেট থেকে একমাত্র দল হিসেবে ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’ অংশ নেয়।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতার মঞ্চে গোল্ড মেডেল গোজ টু ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি—এসওয়াইটি ইনোভেটরস, বাংলাদেশ ঘোষণা দেওয়া হলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশি দলের সদস্যদের মধ্যে। ‘এআই মিলিটারি রোভার’ প্রকল্পের জন্য তারা এই স্বর্ণপদক অর্জন করে।
এদিকে, আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর ২০২৬ তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ইলদিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘গ্লোবাল রোবোটিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চ্যাম্পিয়নশিপ (জিআরআইসি) ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক ফাইনাল। এতে ছয় মহাদেশের সেরা উদ্ভাবকেরা অংশ নেবেন। সেখানে ‘এআই মিলিটারি রোভার’ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি ও তার দল ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’।
ইয়াফির বাবা জাহেদ হোসেন তাজিন বলেন, ইয়াফি আমার ছেলে, কিন্তু আজ সে পুরো বাংলাদেশের সন্তান। সে প্রমাণ করেছে, আমাদের দেশের তরুণরা সুযোগ পেলে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এটা শুধু একটি মেডেল নয়, এটি আমার ছেলের ঘাম, শ্রম ও নির্ঘুম রাতের ফসল। মালয়েশিয়ার মতো তুরস্কেও সে সাফল্য অর্জন করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে বলে আমি আশাবাদী।
মালয়েশিয়ার এই অর্জনের পর তুরস্কের আন্তর্জাতিক ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়াফি ও তার দল। তাদের এই সাফল্যে জুড়ীসহ সিলেট অঞ্চলে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.