
স্টাফ রিপোর্টার : বই পড়ি, মন গড়িÑএই স্লোগানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমকালো আয়োজনে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দুই মাসব্যাপী বই পড়া উৎসব।
শনিবার ১০ অক্টোবর সকালে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সহযোগিতায় বই পড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণী উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে এবং আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান। বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, পুরস্কার পাওয়া বড় বিষয় নয়, মূল সার্থকতা হলো বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতার বিকাশ। তরুণেরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যা দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শ্রীমঙ্গলের ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং উন্মুক্ত ক্যাটাগরির বইপ্রেমীরা অংশ নেন। সময়োপযোগী উদ্যোগ তরুণদের নিয়মিত পাঠাভ্যাসে অনুপ্রাণিত করবে এবং শ্রীমঙ্গলে একটি আলোকিত, জ্ঞানভিত্তিক ও মননশীল প্রজন্ম গঠনে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি, জ্ঞানচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুঅভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এ কার্যক্রম সফল করতে উপজেলার শিক্ষক, অভিভাবক ও সাহিত্যপ্রেমী সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৭০ জন বিজয়ীর মধ্য থেকে ৭ জনকে ‘বেস্ট রিডার’ ঘোষণা করা হয়। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পুরস্কার। অনুষ্ঠানের ফাঁকে একের পর এক চলে গান ও নৃত্য।
উৎসবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৩৯ জনের মধ্য থেকেও সেরা পাঠককে সনদ ও ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৬২১ জন শিক্ষার্থীর হাতেও তুলে দেওয়া হয় সনদ ও বই।
আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ পেয়েছেন ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আরও নয়জন করে শিক্ষার্থী সনদ, ক্রেস্ট ও বই পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বইপ্রেমী মানুষ অংশ নেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.