
বিকুল চক্রবর্তী : শ্রীমঙ্গলে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে উপজেলার সাতগাঁওয়ের রঘুনাথপুর শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
দেবী দুর্গার কুমারী রূপের পূজা দেখতে মৌলভীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী মন্দির প্রাঙ্গণে সমবেত হন।
রোববার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এ পূজা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। এ বছর দেবী দুর্গার ‘অপরাজিতা’ রূপে পূজা করা হয় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অন্যা রানী চক্রবর্তীকে।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দ্বীপশিখা ধর জানান, এ বছর ২৯তমবারের মতো কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছর দেবীর ভিন্ন ভিন্ন নামে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী কুমারীকে দেবীর বিভিন্ন রূপে পূজা করা হয়। বয়সভেদে কুমারীর নামও আলাদা। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুই বছরে সরস্বতী, তিন বছরে ত্রিধামূর্তি, চার বছরে কালিকা, পাঁচ বছরে সুভগা, ছয় বছরে উমা, সাত বছরে মালিনী, আট বছরে কুব্জিকা, নয় বছরে কালসন্দর্ভা, ১০ বছরে অপরাজিতা, ১১ বছরে রুদ্রাণী, ১২ বছরে ভৈরবী, ১৩ বছরে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছরে পীঠনায়িকা, ১৫ বছরে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সে অম্বিকা বা অন্নদা নামে পূজা করা হয়।
পুরহিত কমলাপদ চক্রবর্তী টুলু বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করলে মনের প্রার্থনা পূর্ণ হয়। এ পূজার মধ্য দিয়ে নারীর মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশ ও নারীকে শ্রদ্ধা জানানোর তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
পূজা দেখতে আসা একজন দর্শনার্থী শিমুল তরফদার বলেন, কুমারী পূজা দেখতে এখানে এসে ভালো লাগছে। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছি, সবার জীবন যেন সুখ, শান্তি ও মঙ্গলে ভরে ওঠে।
পুরোহিত অসিত ভট্টাচার্য্য বলেন, হিন্দু দর্শন ও তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, সমগ্র সৃষ্টিতে বিরাজমান আদিশক্তি বা নারীশক্তির প্রতীক কুমারী। প্রতিটি নারীর মধ্যেই দেবীর মাতৃরূপ নিহিত রয়েছে—কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে সেই বিশ্বাসেরই প্রকাশ ঘটে। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের মূল শক্তি একটি নিষ্পাপ কুমারীর মধ্যে সুপ্ত রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাসে মনে করা হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.