কুলাউড়া অফিস ॥ শফিক মিয়ার মানসিক রোগি হলেও কারো সঙ্গে ঝগড়া বা কারো কোন ক্ষতি করতেন না বলে জানান স্থানীয় লোকজন। আকস্মাৎ শফিক মিয়ার মানসিক রোগ বেড়ে যাওয়া এবং হামলার কারণ নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ কেউ বলছেন শফিক মিয়ার পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় কথা কাটাকাটি হয়। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে ছুরি ও দা নিয়ে বের হয়েই এলোপাতাড়ি হামলা চালান। কয়েকজন বলেছেন, তিনি ঘুম থেকে উঠে আকস্মাৎ ছুরি নিয়ে এসে হামলা চালান।
রাজনগর উপজেলার ঘড়গাও গ্রামে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।
২৭ জানুয়ারী শুক্রবার জুম্মার নামাযের পরে মানসিক রোগি শফিক মিয়ার হামলায় নিহত ২ নারীর লাশের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে নিহত দু’নারীর মধ্যে শামছুল ইসলামের স্ত্রী এক সন্তানের মা সায়রা বেগম ৬ মাসের অন্তঃসত্বা ছিলেন বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। ৩ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে তিনি নিহত হন।
এ ঘটনার সময় শফিক মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে রায়হান আহমদ বাড়িতে ছিলেন না। রায়হান চট্রগ্রামে থেকে দুই বছর যাবত ইলেক্ট্রিকের কাজ করছে। তার মা রয়েছেন বাবার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে। শফিক মিয়ার মেয়ে সুমি বেগম (১৫) গুরুতর আহত হয়েছে।
সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী এসআই আবু মোকসেদ পিপিএম বলেন, ঘাতক একেক জনকে বুকে পেটে একটিই ঘাই দিয়েছে। লম্বা ছুরি থাকায় শরীরের গভীরে আঘাত লেগেছে। অধিক রক্তক্ষরণে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। হত্যা ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোঃ সাইফুল্লাহ, রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।
এব্যাপারে রাজনগর থানার এসআই শংকর নন্দী মজুমদার জানান, দাফন কাফন শেষে থানায় এসে অভিযোগ দেয়ার কথা। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কেউ এসে অভিযোগ দেয়নি, ফলে মামলাও হয়নি।
উল্লেখ্য, ২৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকালে সাবেক আনসার সদস্য শফিক মিয়ার ছুরির আঘাতে তারই চাচাতো ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নজরুন বেগম (৪৫) ও অপর চাচাতো ছোট ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) সায়রা বেগম (৩০) নিহত হন। আহত হন শফিক মিয়ার মেয়ে সুমি বেগম (১৫), আরেক চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী নেছারুন বেগম (৬৫) ও ভাতিজি তানিয়া বেগম (১৭)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তানিয়াকে সিলেট ওসমানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.