কুলাউড়া অফিস॥ দারুল ক্বেরাত মাজিদিয়া ফুলতলি ট্রাষ্টের কুলাউড়ায় উপজেলার কমর্ধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলী জামে মসজিদ সেন্টারে ৮ বছরের পিতৃহীন এক ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্ঠা করেছেন প্রতিষ্ঠানের ক্বারী ও মাওলানা মোজাম্মেল আহমদ। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে তার সহপাঠিরা এগিয়ে আসলে সটকে পড়ে অভিযুক্ত ক্বারী মোজাম্মেল। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোন সুরাহা না করে ওই ক্বারীকে মসজিদ থেকে বিদায় করে দেন দারুল ক্বেরাত ফুলতলি ট্রাষ্টের কর্তৃপক্ষরা।
১৫ জুন বৃহস্পতিবার জানজানি হলে এলাকায় চড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভোক্তভোগির পরিবার অসহায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দারুল ক্বেরাত কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করছেন।
ভুক্তভোগির স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১১ জুন রোববার ভোরে দারুল ক্বেরাত মাজিদিয়া ফুলতলি ট্রাষ্টের কুলাউড়ায় উপজেলার কমর্ধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলী মসজিদ সেন্টারে পড়তে আসে পিতৃহীন এক ছাত্রী (৮)। এসময় ছাত্রছাত্রী উপস্থিতি কম থাকায় ক্বারী তাঁর রুমে নিয়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্ঠা চালায় দারুল ক্বেরাতের প্রধান ক্বারী ও ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল আহমদ। ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে আসলে সটকে পড়ে মোজাম্মেল। পরে বিষয়টি অন্যান্য ক্বারীদের জানালে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোন সুরাহা না করে ওই ক্বারীকে তার বাড়ীতে বিদায় করে দেন। বিকেলে ওই ছাত্রী তার মাকে গিয়ে ঘটনাটি জানালে লোকলজ্জায় মা বিষয়টি গোপন রাখেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ভোক্তভোগির পরিবার অসহায় হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দারুল ক্বেরাত কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করছেন। ১৬ জুন শুক্রবার জুম্মার পর দারুল ক্বেরাত ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর চাচাকে ডেকে নিয়ে বলেন সোমবার অথবা মঙ্গলবারের দিকে বিষয়টি দেখে দেয়া হবে।
এ ব্যপারে দারুল ক্বেরাত ফুলতলি ট্রাষ্টের পূর্ব ফটিগুলী জামে মসজিদ সেন্টারে নাজিম দিলু মিয়া ও ক্বারী নুরুল ইসলাম শেফুল এ প্রতিবেদককে সেলফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা তাৎক্ষনিক ক্বারী মোজাম্মেলকে দারুল ক্বেরাত থেকে বহিস্কার করেছি। এবং তার সনদ বাতিল করার জন্য ক্বারী সোসাইটিতে সুপারিশ করেছি।
ভুক্তভোগির ওই ছাত্রীল চাচা বলেন, মসজিদ বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্রতম যায়গা। সেখানে গিয়েও যদি ছাত্রীরা নিরাপদ না থাকে তাহলে আমরা যাবো কোথায়। একজন ইমাম ও ক্বারী যদি মসজিদের ভেতর রোজা রেখে এধরনের ন্যাক্ষার জনক ঘটনা ঘটায় তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে? আমরা ঘটনার দৃষ্ঠান্তমূল শাস্তি চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা। দারুল ক্বেরাত ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাকে আজ সেখানে যাওয়ার জন্য বলেছিল আমি যেতে পারিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.