কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে এক যুবকের মাথায় কাঁঠের বড় টুকরো দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর ঘাতক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনাটি ঘটে শনিবার ২৪ জুন রাত সাড়ে আটটায়।
ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি)-র মালিকানাধীন পাত্রখোলা চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এ চা বাগানের ইছামতি শ্রমিক বস্তির রঞ্জন মালাকারের ছেলে মঞ্জন মালাকার (৩৪)-এর মাধ্যমে ২/৩ বছর আগে একই বস্তির মৃত হীরালাল গড়ের ছেলে বল্টু গড় (২০) ঢাকায় শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে দুইজনই আবার পাত্রখোলা চা বাগানে ফিরে আসে। তাদের দুই জনের মাঝে খুবই আন্তরিকতা ছিল। নিজেদের মাঝে কোন এক বিরোধকে কন্দ্রে করে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মঞ্জন মালাকার তার বাসার সামনেই বল্টু গড়ের মাথায় একটি বড় কাঁঠের টুকরো দিয়ে কয়েক দফা আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনার খবর পেয়ে পাত্রখোলা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তীসহ পরিষদের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় বল্টু গড়কে উদ্ধার করে রাতেই কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাত্রখোলা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উভয়ের মাঝে বেশ ভাল সম্পর্ক ছিল। শনিবার রাত সাড়ে আটটায় মঞ্জন মালাকারের স্ত্রী মানামা মালাকার দ্রুত দৌড়ে এসে চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি হিসাবে তাকে জানান, তার স্বামী বল্টু গড়কে কাঁঠের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। এ খবর শুনে তারা ঘটনাস্থলে যাবার আগেই ঘাতক মঞ্জন পালিয়ে যায়।
পাত্রখোলা চা বাগান ব্যবস্থাপক মো: শামছুল ইসলাম সেলিম ও মাধবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পুষ্পু কুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: নজরুল ইসলাম হত্যকান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। আর এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগ পেলেই মামলা গ্রহন করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.