
বিশেষ প্রতিনিধি॥ কুলাউড়ার দক্ষিণাঞ্চলের ফানাই নদীর ১৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আরও ৮টি স্থান। ফলে খরস্রোতা এ নদীর দুই পাড়ের প্রায় ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতিপূর্বে কয়েকটি ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে এসব এলাকার আউশ ক্ষেতসহ আমন ক্ষেতের বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমের আমন ক্ষেত নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন এসব এলাকার শত শত কৃষক। প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ভাঙন মেরামতে সরকারীভাবে কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফানাই নদীর রাউৎগাঁও ইউপির কবিরাজি এলাকায় ৩টি, মুকুন্দপুর এলাকায় ২টি, ভাটুৎগ্রামে ২টি, মিনার কোনায় ২টি, ভবানিপুর এলাকায় ১টি ও নর্তন এলাকায় ৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত মে মাসের শুরুতে সর্বপ্রথম ভাঙন দেখা দেয় কবিরাজি এলাকার রায়মনি মল্লিকের বাড়ির পাশে। প্রায় ২০০ ফুট জায়গা জুড়ে এ ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে রাজারবন্দসহ কয়েকটি এলাকার রোপনকৃত শতাধিক একর আমন ক্ষেত বিনষ্ট করে দেয়। পরবর্তি সময়ে অধিক বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে এসব এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। বেশ কয়েকদিন পানিবন্দি অবস্থায় ছিল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এসব এলাকার রাস্তা-ঘাটের। প্রায় ১৫ দিন কুলাউড়া-ঢুলিপাড়া এবং কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়ক সপ্তাখানেক পানিতে নিমজ্জিত ছিলো। এছাড়া ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় চৌধুরীবাজার-কালিটি সড়ক, রাঙ্গিছড়া-হাসিমপুর রাস্তা, লস্করপুর-রাঙ্গিছড়া পাকা রাস্তা, চৌধুরীবাজার-মুকুন্দপুর পাকা রাস্তাা, মুকুন্দপুর-কবিরাজী সংযোগ সড়ক ও কবিরাজী-হাসিমপুর সংযোগ সড়ক। এসব ভাঙনগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না করা হলে আরও ভয়াবহ দূর্ভোগে পড়বে মানুষজন। এদিকে কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব হাসিমপুর অজয় মাস্টারের বাড়ির সামনে প্রায় ২০০ ফুট ও সদর ইউনিয়নের গুতগুতি-লক্ষীপুর এলাকায় প্রায় ১৫০ ফুট নদী তীরবর্তী যাতায়াত সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সড়ক ও নদীর ভাঙনকৃত স্থানগুলো জরুরিভাবে মেরামতের জন্য কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ৬ জুলাই আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। উপজেলা কৃষি অফিসার জগলুল হায়দার জানান, ফানাই নদীর ভাঙনে কয়েকটি এলাকার প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.