এইচ ডি রুবেল॥ গত দেড় মাস থেকে করালগ্রাসী বন্যার কবলে কুলাউড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ। ভয়াবহ এ বন্যার কবলে পড়ে বিপর্যস্থ জীবন-যাপন করছেন মানুষজন। সেই বিপর্যস্থ বন্যাকবলিত মানুষের মুখে দু-বেলা খাবার দিতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, সংস্থা ও ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেয়া হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী (ত্রাণ)। তারপরও চাহীদা পূরন করা যাচ্ছেনা মানুষের। কারণ এতটা অসহায়বোধে বিগত এক যুগেও পড়েনি মানুষ। তারপরও কিছু কিছু জায়গায় চোখের আড়ালেই রয়ে যাচ্ছেন বন্যাকবলিত অনেক পরিবার।
সরেজমিন গিয়ে কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড (গিয়ানগর-রংগীরকুল) এলাকায় কয়েকটি পরিবারের খোঁজ মিলে। দক্ষিণ গিয়াসনগরের আয়না মিয়া বলেন, গত রোযার ঈদ উপলক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াসনগর মাদ্রাসার পাশে এসে নিজ হাতে ময়দা, সেমাই, চিনি তেলসহ একটি প্যাকেট দিয়েছিলেন। এছাড়া কুলাউড়া মিলিপ্লাজা
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি ত্রাণের প্যাকেট পেয়েছিলাম। গত দেড় মাসে এই ত্রাণ পেয়েছি আমি। একই কথা ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বী চেরাগ আলী, দবর আলী, হবিব মিয়া, নজরুল, মৃত উবই মিয়ার স্ত্রী, কুতুব আলী, হাসই মিয়া, নেওর মিয়া, মনা পীর, কনু মিয়া, পশ্চিম কামারকান্দি এলাকার হান্নান মিয়া, উত্তর রংগীরকুল (নওয়াগাঁও) এলাকার মুজিব মিয়া, মৃত তাইর আলীর স্ত্রী, মানিক মিয়ার স্ত্রী, এলাইছ মিয়া, মূর্শেদ মিয়া, রফিক মিয়া, ও ইদ্রিছ আলীর।
তারা সকলেই বলেন, চারিদিকে শুনি সরকারী-বেসরকারী ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, কই আমরাতো পাইনা। অন্যান্য এলাকার মতো আমরাও দেড় মাস থেকে পানিবন্দি। আমাদের খোঁজ-খবর কেউ করেননা। সকলেরই ধারণা আমরা শুকনোয় আছি। জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্ত্ববানদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন একটিবার স্বচক্ষে আমাদেরকে দেখে যান।
কষ্টভরা নিঃশ^াস ফেলে হবিব মিয়া, নজরুল মিয়া, ইদ্রিছ আলী বলেন, মনে করেছিলাম আমাদের এলাকার এমপি আছেন, সবচেয়ে বেশি ত্রাণ আমরা পাবো। কিন্তু দু:খের বিষয় আমাদের এই দূর্ভোগকালীন সময়ে কেউই খোঁজ নিচ্ছেননা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সামান্য চাল পেয়েছি। তা দিয়ে কয়দিন যায়। আমরা দিন মজুর মানুষ, পরের কৃষি জমিতে কাজ করে জিবীকা নির্বাহ করি। চারিদিকে পানিতে থৈ থৈ, তাই কোন কাজকর্ম করতে পারছিনা। একবেলা-আধাবেলা খেয়েই আমাদের থাকতে হচ্ছে। জানিনা আর কয়দিন এভাবে থাকতে হবে।
হয়তো এভাবে কষ্ট দিয়ে হতদরিদ্র মানুষগুলোকে অসহায় করে করালগ্রাসী বন্যা চলে যাবে। এক, দুই বছর অথবা আরও একযুগেও এমন ভয়াবহ বন্যা আসতে পারে, আবার নাও আসতে পারে। তা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু মানুষের চোঁখে-মুখে রয়ে যার এই বন্যার ভয়াবহতার চাঁপ। বন্যা কবলিত অন্যান্য এলাকার মানুষের পাশে যেভাবে সবাই দাড়িয়েছেন, সেভাবে কি দাড়ানো যায়না ওই কয়টি পরিবারের পাশে? না কি শেষ পর্যন্ত ত্রাণের আড়ালেই রয়ে যাবে ওই কয়টি পরিবার?।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.