বিশেষ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া জুড়ী ও বড়লেখা সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে অপর হাওর কাওয়াদীঘি তীরের রাজনগর ও সদর উপজেলায় বন্য পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু দুর্ভোগ লেগেই আছে দুর্গত মানুষের মাঝে। বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠা পরিবারগুলোর কেউ কেউ বাড়ি ফিরলেও অধিকাংশ মানুষ বাড়ি যাবার জন্য প্রস্তুতি নিলেও কাচা বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ায় বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। অন্যদিকে ১ জুলাই থেকে হাওরাঞ্চলে ওএসএস বন্ধ করায় কষ্ঠে বেড়েছে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের। তাদের দাবি দ্রুত ওএমএস চালু করার। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণসূত্রে জানা যায় অকাল বন্যায় ফসল হারানো হাওরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের মধ্যে গত মে মাস থেকে সাশ্রয়ীমূলে ওএমএস চালু করা হয়েছিলো এবং ৩০ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে জুলাই মাসের ১ম দিন থেকে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। সেটা চালুর জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালকের বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সরেজমিন হাকালুকি হাওর পাড়ে দেখা যায়, গত দুই-তিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। হাওর এলাকায় ধীরে ধীরে পানি কমছে বলে জানান বানভাসি মানুষ। সরকারি হিসেবে জেলার কুলাউড়া, জুড়ীর বড়লেখা, রাজনগর ও সদর উপজেলার জেলার ৩৩ টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রায় ৩ লক্ষ দুর্গত মানুষ রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে হতাশ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ। এ ছাড়া বন্যাকবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ আছে। দ্বিতীয়বারের মতো বন্যায় আউশ ও রোপা আমনের ৯৫৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।
ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান মনির জানান, বন্যা প্রায় অতিবাহিত হওয়ার পথে। এখন ভরা বর্ষাকাল। বৃষ্টিপাত আরও হবে। বন্যার পানি সাময়িক কমলেও তা আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে এখন খুশি হওয়ার কিছু নেই। বরং হাওর তীরের বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলোতে বন্ধ হওয়া ওএমএস দ্রুত চালু করলে মানুষের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বি জানান, আমরা বিষয়টি ত্রাণ মন্ত্রী মহোদয়কে বলেছি। তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে ওএমএস চালু করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। আর কুলাউড়ার প্রতিটি মানুষই ত্রাণ পেয়েছে। আমরা মানুষের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বিতরণ করেছি।
হাকালুকি হাওর তীরের জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি জানান, হাওর এলাকায় যখন শতভাগ বোরো ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তখনই ক্ষতিগ্রস্থ হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত ছিলো। প্রায় ৪ মাসে পুরো এলাকার অবস্থা নাকাল। রাস্তাঘাট অবকাঠামো সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এ অবস্থায় ওএমএস চাল বিক্রি বন্ধ করা দু:খজনক।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, দুই-তিন দিন থেকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারনে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার ৮ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হাওয়ায় পানি ধীর গতিতে কমছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন জানান, মন্ত্রীর কাছে ওএমএস’র দাবি জানালে তিনি চালুর ব্যাপারে আশ^াস দিয়েছেন। সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও চাহিদা মিটছে না।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.