
আবদুর রব॥ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহা-সড়কের ১০টি স্থান প্রায় দেড় মাস ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এ সড়কে চলাচলকারীদের একমাত্র ভরসা ১০-১২ গুন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাক, ট্রাক্টর আর পাওয়ার টিলারে চলাচল। মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার আগুন হয়ে উঠেছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করলেও সড়ক সংস্কারে সওজ (সড়ক ও জনপথ বিভাগ) চরম উদাসীন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যে সড়ক দিয়ে অবাধে যানবাহন চলাচল করতো, জলমগ্ন সেই সড়ক পারাপারে এখন ট্রাক, ট্রাক্টর, নৌকা ও পাওয়ার টিলারই জনসাধারণের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব বাহনে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১২ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের লোকজন। বিশেষ কওে নারী চাকুরীজীবিরা পড়েছেন মহাবিপাকে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘বন্যায় গত দেড় মাস থেকে বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহ-সড়কের জুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মুখ, চৌমুহনী, উত্তর জাঙ্গীরাই, বাছিরপুর, পশ্চিম হাতলিয়ার ৪টি স্থানসহ সড়কের ১০ স্পট তলিয়ে রয়েছে। দীর্ঘ দেড় মাস ধরে রাস্তাটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের (স্থানীয়দের)।’
বুধবার সরেজমিনে বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক সড়কের পশ্চিম হাতলিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে বন্যার পানি থাকায় সড়কে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সড়ক পরাপারের জন্য স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি স্থানে সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। পানি আর বড় বড় গর্তের মধ্যে সড়কে চলতে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে অনেক যানবাহন। এসময় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায় যাত্রীদের।
স্থানীয় বদরুল হোসেন লুকুজ (৪৮) বলেন, ‘দেড় মাস ধরে রাস্তায় পানি। হুরুতা-মুরতা (ছেলে-মেয়ে) টাইম মত (সময় মত) ইস্কুলো যাইতা পাররা না। এছাড়া গাড়ির বাড়া (ভাড়া) ডাবুলে (ডাবল) তিন/চার ডাবুল। হাতলিঘাট থাকি কুলাউড়া যাইতে এখন সিএনজিতে বাড়া লাগে ১০০ টাকা। যেখানে আগে বাড়া দিতে অইত ৪০ টাকা।’ প্রাইমারী স্কুল শিক্ষিকা খুসি রাণী দাস জানান, জুড়ী উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া করে থাকলেও কর্মস্থল বড়লেখার দক্ষিণভাগ সরকারী প্রাইমারী স্কুল। ১ জুলাই থেকে স্কুল খুলেছে। যাওয়া-আসায় আগে ৪০ টাকা লাগতো। রাস্তা ডুবে থাাকায় এখন ১৫০-২০০ টাকা লাগছে। এর উপর মারাত্মক দুর্ঘটানার আশংকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, সড়ক মেরামত করতে সড়ক বিভাগের যেন কোন দায় নেই।
ট্রাক্টর যাত্রী শামীম আহমদ জানান, পানির কারণে রাস্তায় ভাড়া এখন ৮-১০ বেশি। জরুরী কাজে না যেয়ে পারা যাচ্ছে না। ৫০ টাকার ভাড়া ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। দেড় মাস ধরে তারা এভাবেই চলছেন।
মোটর সাইকেল আরোহী আলী আজাদ জানান, চারটি স্থানে রাস্তায় পানির কারণে মোটরসাইকেল নৌকায় পার করতে হয়েছে। ৫০ টাকা করে মোটরসাইকেল পার করতে দিতে হয়েছে ২০০ টাকা। খুব কষ্ট হচ্ছে। রাস্তাটি উঁচু করে জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা দরকার।
সওজ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের ৩ কিলোমিটার জায়গার ১০ স্থান পানিতে নিমজ্জিত। প্রায় দেড় মাস থেকে রাস্তায় পানি। এখনও ৮টি স্থানে পানি রয়েছে। বরাদ্দ আসলে টেন্ডার করে কাজ হবে। এর আগ পর্যন্ত ইট-বালু ফেলে যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.