কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরু চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। গরু চোরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে কোথাও কোথাও কৃষককূল বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছে। গত পনের দিনের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৯টি গরু ও ২টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই ব্যক্তির ৬টি গরু চুরি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নরেশ দেবনাথ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র গরু চুরি করে অন্যত্র পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পনের দিনে কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীসূর্য্য এলাকা থেকে ৩টি গরু, পতনঊষারের চাঁন মিয়ার ৩টি গরু, শ্রীরামপুর থেকে ৪টি, রাঙাটিলা গ্রামের সফিক মিয়ার ২টি, দেওছড়া চা বাগানের সিনাথ রবিদাসে ২টি গরু, রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের নরেশ দেবনাথের বাড়ি থেকে ৬টি গরু, মাধবপুরের ধলাইপার গ্রামের তোফায়েল মিয়ার ২টি, মাধবপুর চা বাগানের জানকা চৌহানের একটি জার্সি গরু, কাটাবিল গ্রামের কাদির মিয়ার একটি গরু, উবাহাটা গ্রামের বিজয় পালের ১টি, ধাতাইল গ্রামের চন্দন মালাকার এর ১টি গরু, কমলগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী হাজীপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বুলবুল আহমদের ৩টি গরু ও কমলগঞ্জ পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ড থেকে ২টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন কৃষক। গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় এসব পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। এক একটি গরুর মূল্য ত্রিশ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা।
মুন্সিবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের নরেশ দেবনাথের একমাত্র সম্বল ৬টি গরু চুরি হওয়ায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি গত রোববার রাতে মারা যান। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে কমলগঞ্জ উপজেলায় চুরি, ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার রাতে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের উবাহাটা গ্রামের সিএনজি অটোরিক্সা চালক বাবুল মল্লিক এর ঘরের দরজা ভেঙ্গে নগদ ১৬ হাজার টাকা, স্বর্ণ ও মোবাইল ফোন সহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়। এ সময় গৃহকর্তা ঘুম থেকে জেগে উঠলে চুরচক্রের একটি মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে যায়। বৃহষ্পতিবার ভোরে কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ও এসআই আব্দুল হামিদ মোবাইল ফোন উদ্ধার করে নিয়ে যান। এছাড়া উবাহাটা ও ধাতাইলগাঁও গ্রামে একই রাতে আরও ছয়টি বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালায় চোরচক্র।
আলাপকালে কৃষক তোয়াবুর রহমান, টিংকু দেবনাথ, জাকির হোসেন, সিনাথ রবিদাস বলেন, অনেক কষ্টে লালন পালন করে গরু পালনের পর চুরি হয়ে যাওয়ায় চিন্তায় ফেলেছে। গরু চুরির ফলে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গরুর সন্ধান পাওয়া যায় না। থানায় অভিযোগ দিয়েও লাভ নেই। বোরো ও আউশ মৌসুমে বন্যায় ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা এমনিতেই যে সংকটে পড়েছেন তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। তার উপরে সম্প্রতি সময়ে অব্যাহতহারে যে পরিমাণে কৃষকদের গরু চুরি হচ্ছে তাতে শেষ সম্বলটুকুও আরও নেই। ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কৃষকদের।
কমলগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম, এ, ওয়াহিদ রুলু বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরি, সিদেল চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন শৃঙ্খলা কমিটিতে এসব বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কমলগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল হামিদ বলেন, গরু চুরির বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। এরপরেও পুলিশি জোর তৎপরতা রয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.