
আবদুর রব॥ বড়লেখার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সুফিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সোয়াশ’ ক্ষুদে শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ঝুকিপুর্ণ ভবনে লেখাপড়া করছে। পাকা একতলা বিদ্যালয় ভবনটির ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে। খুঁটি ও কলামে দেখা দিয়েছে ফাটল। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এ অবস্থায় যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
জানা গেছে, বিগত ১৯৫৯ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৯৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মিত হয়। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে ১২৫ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। তাদের পাঠদানে রয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র দুইজন শিক্ষক।
সরেজমিনে স্কুল ভবনটি ডেমেজ হয়ে পড়তে দেখা গেছে। তিনটি কক্ষের ছাদের বেশ কিছু জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। এসব কক্ষের ছাদের মাঝ বরাবর টানা কলামে অসংখ্য ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। এ অবস্থায়ই চলছে শ্রেণী কার্যক্রম। ভবনটির সামনের পাঁচটি খুঁটিতেও ফাটল দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ রঞ্জন দে জানান, ২০১৪ সালে তৎকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল রঞ্জন দে পরিদর্শন করে বিদ্যালয় ভবনটির দুরবস্থা দেখেছেন। পরে তিনি বিদ্যালয় ভবনটিকে পরিত্যক্ত ও যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশংকার কথা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানে নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ব্যাপারে জাতীয় সংসদের হুইপ ও মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়।
প্রধান শিক্ষক আরো জানান, স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে চান না। আবার অনেকে ভর্তির কিছু দিন পর আশপাশের স্কুলে নিয়ে যান। এ বছরের শুর”তে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বর্তমানে ১৮ জন। এরপরও ২০১১ সাল থেকে সর্বশেষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টিও একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
স্কুল কমিটির সভাপতি শামসুল ইসলাম জানান, শিক্ষর্থীদের প্রাণঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে তারা বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আশপাশের কোনো বাড়িতে অথবা বিদ্যালয় ভবনের সামনের ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে সেখানে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, বড়লেখায় সম্প্রতি যোগদান করায় সুফিনগর বিদ্যালয়টি এখনো পরিদর্শনের সুযোগ হয়নি। তবে বিদ্যালয়টির ভবনের দুরবস্থা ও শিক্ষক স্বল্পতার কথা তিনি শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভূষণ পাল জানান, সুফিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন একটি ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। কিছু দিনের মধ্যেই মাটি পরীক্ষার কাজ শুর” হতে পারে। এর পর নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.