আবদুর রব॥ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর মডেল ফাজিল মাদ্রাসায় ১৬ বছর ধরে জনবল কাঠামো লংঘন করে অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে আরবী প্রভাষক পদে চাকুরী করছেন মো. আবুল কালাম আজাদ! জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ও বেতনের নামে সরকারী লাখ লাখ টাকা আত্মসাতকারী এ প্রভাষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলে ৪ অক্টোবর সহকারী কমিশনার (ভুমি) মামুনুর রহমান অভিযোগের তদন্ত করেছেন। প্রভাষক পদে অবৈধ নিয়োগে ১৬ বছর ধরে চাকুরী করে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ভাদেশ্বর সিনিয়র মাদ্রাসায় আরবী বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত জারি করা জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্রার্থীদের শিক্ষা জীবনের সকল পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ থাকার কথা উলে¬খ করা হয়। কিন্তু দুইটি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকা স্বত্ত্বেও আরবী প্রভাষক পদে মো. আবুল কালাম আজাদ আবেদন করেন। রহস্যজনকভাবে তিনি বাছাইয়ে টিকে যান ও নিয়োগ পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়ে ৩০ এপ্রিল এ মাদ্রাসায় আরবী প্রভাষক পদে যোগদান করেন। সরকারী জনবল কাঠামোর চরম লংঘন করে অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে পরবর্তীতে তিনি এমপিওভুক্ত (ইনডেক্স নং-৩১৮৩৮১) হয়ে অদ্যাবধি কর্মরত।
অভিযোগকারী ছাদিক আহমদ খান আলী হোসেন, রেদওয়ান আহমদ প্রমূখ এলাকাবাসী জানান, আরবী প্রভাষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ নিয়োগ বিধিমালা অগ্রাহ্য করে জালিয়াতির মাধ্যমে যে নিয়োগ নিয়েছেন তা জানতেন না। বিষয়টি জানার পরই তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আরবী প্রভাষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, এ মাদ্রাসায় নিয়োগের পুর্বে তিনি কামাল বাজার দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। সেখানকার ইনডেক্স নম্বর অনুযায়ী বিধিমোতাবেক তিনি এ মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে আবেদন করেন এবং নিয়োগ কমিটি ম্যানুয়েল ঘেটেই তাকে নির্বাচিত করে নিয়োগ দিয়েছে।
অধ্যক্ষ শুয়াইবুর রহমান আরবী প্রভাষক মো. আবুল কালাম আজাদের দুইটি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবরের জনবল কাঠামোটি ৩১ আগষ্ট ২০০০ইং বলবৎ রাখার পরিপত্র জারি হয়। সে অনুযায়ী দাখিল স্তরের ইনডেক্স ফাজিল স্তরে প্রযোজ্য নয়। তার নিযোগ বিধিবর্হিভুত ও অবৈধ দাবী করে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন। ৪ অক্টোবর অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভুমি) মামুনুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে ৪ অক্টোবর অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করেছেন। যথাশীঘ্র প্রতিবেদন জমা দিবেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.