
স্টাফ রিপোর্টার॥ জান্নাতুন আতœহত্যা করেনি। যৌতুক না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এমন অভিযোগ জান্নাতুন বেগমের পরিবারের। তারা অভিযোগ করে বলেন বিয়েরপর থেকে স্বামীর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তারা নানা ভাবে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে বলত আর নির্যাতন করত। দিন দিন তারা যৌতুকের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠে। সাধ্যহীনতা থাকারপরও মেয়ের সুখের জন্য কয়েক বার যৌতুকের টাকা পরিশোধ করলেও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ক্ষান্ত্র হয়নি। সর্বশেষ তাদের চাহিদানুযায়ী ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়েকে হত্যা করে। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে টাকার জন্য তারা শারিরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করত। কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে আমার মেয়ে ও আমরা কখন মুখ খোলিনি। উল্টো মেয়েকে স্বান্তনা দিতাম। বলতাম র্ধৈয্যধর ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের নির্যাতনে শেষপর্যন্ত আমার মেয়েটি মারাই গেল। এমন অভিযোগে মেয়ের জামাই ও মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকদের উপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে মামলা করেন জান্নাতুন বেগমের পিতা কমলগঞ্জ উপজেলার টিলাগাঁও গ্রামের মো: নুর মামদ।
মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ সুত্রে জানা যায় জান্নাতুন বেগমের গত ১ জুন ১৭ ইং তারিখে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মোহরানা সাইব্যস্থে সামাজিক ভাবে বিবাহ হয় একই উপজেলার একই গ্রামের রমিজ মিয়ার পুত্র সুলতান আহমদ সেলিমের সাথে। বিবাহের এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরই মোঃ সুলতান আহমদ ওরফে সেলিম আমার মেয়ে জান্নাতুন বেগমের নিকট ১ লক্ষ টাকা ব্যবসা করার জন্য যৌতুক দাবী করে। আমার নিকট হতে নিয়ে দেওয়ার জন্য সে ডেকোরেটার্স এর ব্যবসা খুলবে। আমার মেয়ে তার স্বামী মোঃ সুলতান আহমদ ওরফে সেলিমকে জানায় মাত্র কয়েকদিন হল তাদের বিবাহ হয়েছে। এই মুহুর্তে কোন টাকার কথা আমাকে বলতে পারবে না। এরপর হতে মোছাঃ ছমিরুন বেগম, মোঃ সুমন মিয়া, সুমা বেগম ও রমিজ মিয়ার প্ররোচনায় ও সহযোগিতা ১নং আসামী বিভিন্ন সময়ে আমার মেয়েকে নানা ভাবে টাকার জন্য নির্যাতন করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে উপরের উল্লেখিত ব্যাক্তিগন নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে আমার মেয়ে এই বিষয়টি আমাকে জানাইলে বাড়িতে গিয়া এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ওই ঘটনা স্বীকার করে। মোঃ নুর মামদ জানান, তার মেয়ের বিবাহের প্রায় ২ (দুই) মাস পর ১০ শতক জায়গা বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা দেন। ঘটনার তারিখে রাত অনুমান ৮.০০ ঘটিকায় আমার মেয়ে তার স্বামীর মোবাইল ফোন হতে আমার মোবাইলে ফোন করিয়া জানায় যে, সকল আসামীরা যৌতুকের টাকার জন্য তাকে মারপিট করছে, তাকে প্রাণে মারিয়া ফেলবে, তাকে বাঁচানোর জন্য। এই কথা বলার সাথে সাথে আসামীগণ মোবাইল ফোনটি আমার মেয়ের নিকট হতে কেড়ে নিয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পূর্বে ইকবাল মিয়া মোবাইল ফোনে জানায় আমার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ, বর্তমানে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসলে মেয়ের মৃত লাশ দেখতে পান। আমার মৃত মেয়ের গয়নাঘাটি খুলিয়া নিয়া তাকে ফেলে রেখে দ্রুত কিছুক্ষণ আগে চলে গেছে। পিতা মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.