হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজারে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্ধে ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলী শাবাব ও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ আহমদ মাহি নিহত হওয়ার ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি প্রধান আসামীসহ বাকী ৯জনই পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
১৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও পুলিশ মূল আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে জেলার সচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার দু-একদিন পর পুলিশ কিছুটা তৎপর থাকলেও এখন তেমনটা নয় বলে নিহত উভয় পরিবারের অভিযোগ।
আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার ২০ ডিসেম্বর সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের উপস্থিতিতে নাগরিক সমাজ মৌলভীবাজারের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
নিহত শাহবারের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী ১২ জনকে আসামী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করলেও (মামলা নং৭/৩৬৩) মাহির পরিবারের পক্ষ থেকে অদ্যবধি কোনো মামলা করা হয়নি। মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে মাহির মামা ইমরান মিয়া বলেন, ন্যায় বিচার পাবনা দেখে মামলা করিনি। কারণ পুলিশ ১৩ দিনের মধ্য মাত্র ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু প্রধান আসামীসহ বাকীরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। পুলিশ নিরব থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। তিনি আরোও বলেন, শাসক দলের নেতারাও নিরব ভুমিকা পালন করছেন। ন্যায় বিচারের জন্য তাদের নেই কোনো প্রচেষ্টা। অথচ তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ন্যায় বিচারের বাণী আউড়িয়ে যাচ্ছেন।
ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মামলার ৮নং আসামী কনক ও ৫নং আসামী আল-জামিলকে মৌলভীবাজার আদালত ঢাকা গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। ৭নং আসামী রুবেল মিয়াকে মৌলভীবাজার কারাগারে রাখা হয়েছে। বাকী আসামীরা হলেন, ছাত্রলীগ নেতা আনিসুল ইসলাম তুষার, আরাফাত রহমান, সৈয়দ সৌমিক, আশফাকুল ইসলাম মাহদি, সনি হায়দার, প্রতীক হাসান, হৃদয় আহমদ, তামিম হাসান ও ফাহিম মুন্তাছির। অজ্ঞাতনাম আরোও ৬/৭ জনকে আসামী করা হয়েছে।
পুলিশ ও ক্ষমতাশীল দলের নেতাদের ভুমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। তারা বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে ইতি মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করতে পারতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা আড়ালে রয়েছে। সুশীল সমাজের মন্তব্য যদি আসামীদের গ্রেফতার না করা হয় তাহলে পাল্লা দিয়ে শান্তির শহরে অপরাদ আরোও বেড়ে যাবে। অপরাধীদের হাতে দিনে-দুপুরে জীবন দিতে হবে মাহি ও শাহবাবের মতো আরোও অনেককে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সুহেল আহম্মদ বলেন, আসামীরা মার্ডার মামলার আসামী থাকায় অনেক সচেতন। যার কারণে সহজে তাদেরকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.