আবদুর রব॥ বড়লেখার সীমান্তবর্তী শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরির্দশক মোশাররফ হোসেন রমরমা আটক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিরাতেই মাদকসেবী, চোরাকারবারি ছাড়াও দুরদুরান্ত থেকে বেড়াতে যাওয়া লোকজনকে আটক করে বিরাট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন। তার আটক বাণিজ্য এলাকায় ওপেন সিক্রেট ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ন’টায় শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরির্দশক মোশাররফ হোসেন বিয়ানীবাজারের বৈরাগীবাজার এলাকার দুই যুবক ছাদিক আহমদ ও শামীম আহমদকে মদ্যপ অবস্থায় শাহবাজপুর বাজারের একটি রাস্তা থেকে অটোরিকশাসহ আটক করেন। তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা না দিয়ে রাত সাড়ে ১২টায ৪ হাজার টাকায় তিনি তাদেরকে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ উঠে। এ রাতে নোহা মাক্রোবাসে পাল্লাথল চা বাগানে যাত্রা গানের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল বিয়ানীবাজার উপজেলার চালকসহ ৯ যুবক। সেখানে গান না হওয়ায় তারা ফিরে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিয়ানীবাজার ফেরার পথে শাহবাজপুর বাজারে পুলিশ তাদেরকে আটক করে। সুত্র জানায় কোন অপরাধী না হয়েও গাড়ীর বৈধ কাগজপত্র থাকা স্বত্ত্বেও বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা ৩৫ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায়।
২১ ডিসেম্বর রাতে শাহবাজপুর বাজার থেকে ৩ কেরেট অবৈধ ভারতীয় মদসহ ৩ যুবককে পুলিশ আটক করে। বিরাট অঙ্কের উৎকোচ পেয়ে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়ে গিয়াস উদ্দিন গাজী নামে আটক একজনকে মাত্র ২ পেকেট দেশিয় মদসহ আদালতে সোপর্দ করেন।
শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, সন্দেহ হওয়ায় নোহা গাড়ীসহ ৯জন এবং অটোরিকশাসহ মদ্যপ ২ যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। গাড়ীর কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাইপুর্বক মূচলেখা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন। ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে একজনকে আদালতে সোপর্দ এবং বিপুল পরিমান ভারতীয় মদ জব্দ করেও মাত্র দুই পেকেট দেশীয় মদ জমা দেয়ার ব্যাপারে বলেন যা পেয়েছেন তা-ই জমা দিয়েছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.