আবদুর রব॥ বড়লেখায় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় উপজেলার সর্বত্র পাহাড়-টিলা কাটা চলছেই।
২ ডিসেম্বর ‘বড়লেখায় টিলা কাটার মহোৎসব’ শিরোনামে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন ছাপা হলে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ টিলার মাটি পরিবহনকারী ২-৪টি গাড়ী আটকিয়ে চালকদের সতর্ক করলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার মুল দায়িত্বে নিয়োজিত পরিবেশ অধিদফতর রহস্যময় কারণে নির্বিকার রয়েছে। এতে টিলা খেকোরা অনেকটা বেপরোয়াভাবে পাহাড় টিলা ধংস করছে।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে সরকার পাহাড়ের বনজ ও হাওরের জলজ জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড় ও হাকালুকি হাওরকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ইসিএ (ইকোলজিকেলি ক্রিটিক্যাল এরিয়া) ঘোষণা করে। প্রভাবশালীদের কালো থাবার দাপটে দিন দিন বড়লেখার পাহাড়ি ও বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের জলজ ও বনজ জীব বৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। টিলা কাটার প্রভাবে প্রতিবছর টিলা কাটা কালিন এক দফা ও বৃষ্টির সময় টিলা ধসে বসতঘরে পড়ে
মাটি চাপায় দ্বিতীয় দফায় ৫-৭ জনের মৃত্যু ঘটছে। হতাহত হচ্ছে আরো অনেকে। পাহাড় ধসে বন্ধ হচ্ছে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা। উজাড় হয় কোটি কোটি টাকার গাছপালা। কিন্তু প্রশাসন টিলা কাটা রোধে পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সুত্র জানায়, টিলার মাটি বিক্রি, গাছ উজাড় ও পরিবহনের সাথে কোন না কোনভাবে ক্ষমতাসীন দলের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। তাই স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে গেলেই অদৃশ্য বাধার সম্মুখিন হয়। আর এতেই একের পর এক ঘটছে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।
সরেজমিনে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির করমপুর, কুমারশাইল, সায়পুর, পুর্বদৌলতপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির মোহাম্মদ নগর, ছোটলেখা, ঘোলষা, বোবারথল, সদর ইউপির ডিমাই, বিওসি কেছরিগুল, জফরপুর, মূছেগুল, হিনাইনগর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির হাকাইতি, কাশেমনগর, জামকান্দি, দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউপির মাঠগোদাম, বিওসি কেছরিগুল, গৌড়নগর, হরিপুর, মাধবকু-সহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ঘুরে অবাধে পাহাড় টিলা কেটে মাটি পরিবহন করার দৃশ্য দেখা গেছে। উপজেলার প্রধান সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ গাড়িতে টিলার মাটি পরিবহন হচ্ছে। ইতিপুর্বে যুৃগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অসাধু টিলা খেকোরা সিমেন্টের বস্তার কাগজের তৈরী ত্রিপল দিয়ে মাটি বাহী ট্রাক-ট্রাক্টর ঢেকে শহর অতিক্রম করছে।
অবাধে পাহাড়-টিলা কাটার ব্যাপারে উপজেলা ভূমি উন্নয়ন ও পরিেেবশ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, পাহাড়-টিলা কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাহাড়-টিলা কাটায় প্রশাসন কাউকে কখনও অনুমতি দিতে পারে না।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. শরীফ উদ্দিন জানান, দেশের প্রকৃতি চরম বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। পাহাড়-টিলা কাটার নেপথ্যের চক্রকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে তা রোধ করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.