
আব্দুর রব॥ বড়লেখায় ১৫ দিন ধরে ৬টি গরুর মালিকানা নিয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসীর মধ্যে রশি টানাটানি চলছে। বিজিবি বলছে গরুগুলো ভারতীয়। আর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর দাবী গরুগুলো দেশিয় বাজার থেকে কেনা।
৮ জানুয়ারী বিজিবি গরুগুলো মুছেগুল এলাকার এক বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নেয়ার চেষ্টা চালালে গরুর মালিক দাবী করে সাহিন উদ্দিন এলাকাবাসী নিয়ে বিজিবিকে বাধা দেন। এসময় বিজিবি সদস্যরা গরুগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিনের জিম্মায় রেখে ক্যাম্পে ফিরে যান। গরুগুলোর মালিকানা দ্বন্দ্ব সুরাহা না হওয়ায় এর জের ধরে যে কোন সময় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা রয়েছে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারী উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির মুছেগুল গ্রামের সাহিন উদ্দিনের বাড়ি থেকে স্থানীয় বিওসি টিলা বিজিবি (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ) ক্যাম্পের সদস্যরা ৬টি গরু ভারতীয় চোরাই দাবী করে সেগুলো নিয়ে ক্যাম্পের দিকে রওয়ানা হন। ১০০-১৫০ গজ এলাকা অতিক্রমের পর সাহিন উদ্দিন গরুগুলো চান্দগ্রাম বাজার থেকে কিনে আনা দাবী করে বিজিবিকে গরু নিতে বাধা দেন। এসময় সাহিনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে বিজিবি সদস্যদের বাকবিতন্ডা শুরু হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিনও তাদের সাথে যুক্ত হন। পরে গরুগুলো নিজের জিম্মায় রাখেন। এরপর বিজিবি কয়েক দফা গরু উদ্ধারের চেষ্টা চালালে এলাকাবাসী ও বিজিবি’র মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের অর্ন্তগত মুছেগুল গ্রামের সাহিন উদ্দিন গত ৬ জানুয়ারী বড়লেখার চান্দগ্রাম বাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় এ ৬টি গরু ক্রয় করেন। গরু ক্রয়ের তার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা সাহিনের বাড়ি থেকে গরুগুলো ভারতীয় দাবী করে ধরে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি গরুগুলো নিজের জিম্মায় রাখেন। গরুগুলোর খাবার ও দেখভাল করতে প্রতিদিন তার ৬-৭শ’ টাকা খরচ হচ্ছে। ২০ জানুয়ারী রাতে বিজিবি সদস্যরা জোরপুর্বক গরুগুলো নেয়ার চেষ্টা চালালে গরুর মালিক ও এলাকাবাসী প্রায় ২ ঘন্টা সড়ক অবরোধ এমনকি তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখে।
বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আহমেদ ইউসুফ জামিল জানান, বিএসএফ জানিয়েছে গরুগুলো ভারতের করিমগঞ্জ জেলার বাবলী ঘাট এলাকার ৩ ব্যক্তির গোয়ালঘর থেকে চুরি করে আনা। সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিওসি টিলা বিজিবি সদস্যরা গরুগুলো গত ৮ জানুয়ারী উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিচ্ছিল। এসময় কিছু লোক বাধা দিলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়। গরুগুলো উদ্ধারের সময় কেউ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে ভুয়া কাগজ তৈরী করে মালিকানা দাবী করছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.