
আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম আনোয়ারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় ২৭ জানুয়ারী শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একটি পক্ষ উপাধ্যক্ষের কক্ষের আসবাবপত্র ও ফাইলপত্র তচনচ করেছে। সংঘর্ষে উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ অফিসার দেবাশীষ সুত্রধর ধরসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, আগামী ২৯ জানুয়ারী মাদ্রাসার ৬০তম বার্ষিক জলসা উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে উপাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা চলছিল। এসময় কতিপয় ব্যক্তি অতর্কিতভাবে কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ও ফাইলপত্র তচনচ করতে থাকে এবং উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরীকে মারধর করে। এরপর মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এলাকার দুইটি পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী, আরবি প্রভাষক আসাব উদ্দিন, শিক্ষক আমিনুল ইসলামসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ইট পাটকেলের আঘাতে এসআই দেবাশীষ সুত্রধরও আহত হন।
গভর্নিংবডির সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না, তবে শুনেছেন সকালে জলসার প্রস্তুতি সভায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ও মাদ্রাসা হতে সাময়িক বহিস্কৃত অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে লোক নিয়ে কক্ষে ঢুকে ভাংচুর ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে (উপাধ্যক্ষ) মারধর করেছেন। এসময় তাকে বাচাতে গিয়ে দুইজন শিক্ষক ছাড়াও বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি মাদ্রাসায় ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
আলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মাদ্রাসার জলসা কমিটির সদস্য হিসেবে উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী চিঠি দিয়ে তাকে মাদ্রসায় নিয়েছেন। তিনি কেন হামলার নেতৃত্ব দেবেন। বরং তিনি হামলাকারীদের হাত থেকে উপাধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় গ্রামেরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, কয়েকদিন থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও তিনি কোন লিখিত কাগজ পাননি। এছাড়া গত কয়েকদিন তিনি কর্মস্থল এলাকায়ও ছিলেন না। হামলা ভাংচুরের নেতৃত্ব দেয়ার প্রশ্নই আসে না।
২৭ জানুয়ারী শনিবার সকালে সাময়িক বরখাস্তের চিঠির খোজ করতেই তিনি মাদ্রাসায় যান। তার অফিসে তালা থাকায় তিনি শিক্ষক মিলনায়তনে বসা ছিলেন। এরমধ্যে মাদ্রাসায় ঝামেলা শুরু হলে তিনি কোমতে বেরিয়ে যান।
ওসি (তদন্ত) দেবদুলাল ধর জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েই একদল পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একজন পুলিশ অফিসার আহত হওয়ার সত্যতাও তিনি স্বীকার করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.