
আব্দুর রব॥ কুলাউড়া-চান্দগ্রাম ভায়া বড়লেখা সিএন্ডবি সড়কের সংস্কার কাজে ধংস করা হচ্ছে সরকারী প্রাকৃতিক টিলা। গত বছরের কয়েক দফা বন্যায় এ সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যার পানি নামার ৫ মাস পরও সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় জনসাধারণ ও যানবাহনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অবশেষে চলিত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে রাস্তার মেরামত কাজ শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সড়কের নিচু স্থান ও গর্ত ভরাটে টিলার মাটি ব্যবহার করছেন।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৫৭ কিলোমিটার স্থান গত বন্যায় ভেঙ্গে যায়। বিশেষ করে জুড়ী চৌমুহনি, জাঙ্গিরাই, বাছিরপুর, কুইয়াছড়ি, পশ্চিম হাতলিয়া, ওয়াপদাসহ বেশ কয়েকটি স্থান কয়েক দফা নিমজ্জিত হওয়ায় উপরের পিচ, পাথর এমন কি মাটি সরে গিয়ে ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্তের সৃষ্ঠি হয়। সেপ্টেম্বর মাসে বন্যার পানি নেমে গেলেও রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবশেষে মার্চের প্রথম সপ্তাহে কয়েকটি স্থানে মেরামত কাজ শুরু হয়। সিএন্ডবি সুত্র জানায়, এসড়কের বিভিন্ন নিচু স্থানের প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ পেয়েছেন কুলাউড়া উপজেলার প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল।
এ সড়কের পশ্চিম হাতলিয়া, কুইয়াছড়ি ও বাছিরপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার নিচু স্থান ও গর্ত ভরাটে জন টিলার মাটি স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা ঠিকাদারের নিকট উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির কাশেমনগর, হাকাইতি ও জামকান্দি এলাকার সরকারী প্রাকৃতিক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে টিলা ধংসের ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে আমির উদ্দিন, শাহাজান মিয়া, জাহের মিয়া, মানিক মিয়া, আব্দুস সহিদ, শরিফ উদ্দিন প্রমূখ ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিলেও টিলা কাটা বন্ধ হয়নি।
ঠিকাদারের সাইট ম্যানেজার কবির মিয়া জানান, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা সহ কয়েকজন রাস্তার কাজের জন্য ঠিকাদারকে রাবিশ বালু সরবরাহ করছেন। তিনি যে প্রাকৃতিক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছেন তা জানেন না। বিষয়টি তিনি ঠিকাদারকে জানাবেন।
ইউএনও মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, কোন অবস্থাতেই পাহাড় টিলা কাটা যাবে না। টিলা কাটার এ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.